নতুন ফিল্ম

কি এই ‘৭২ হুরে’ (72 Hoorain) ? Kasmir Files Kerala Story র পর একই পথে হাঁটছে 72 Hoorain?

72 Hoorain

‘কাশ্মীর ফাইলস’, ‘দ্য কেরালা স্টোরি’র পর এবার এলো ‘৭২ হুরে'(72 Hoorain) ছবিটি ২০১৮ সালে তৈরি হয়েছিল। এবং প্রথম দেখানো হয়েছিল ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম অফ ইন্ডিয়া অনুষ্ঠানে। সেই বছরই এটি জিতেছিল আইসিএফটি ইউনেস্কো গান্ধী মেডেল। এই পুরস্কারটি শান্তিমূলক বার্তা প্রদর্শনকারী এবং আন্তঃসংস্কৃতিক ভাব বিনিময়ের কারণে প্রদান করা হয়। তবে কি ‘৭২ হুরে'(72 Hoorain) একটি শান্তি বার্তা প্রদর্শনকারী চলচ্চিত্র? তবে সেই ছবি নিয়ে এত অশান্তি কেন? কেন প্রেক্ষাগৃহে তার ট্রেলার প্রদর্শনের ছাড়পত্র দেওয়া হল না? কেন ইউটিউবে ট্রেলার আসার পর থেকে গণমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে সমালোচনার এত ঝড়? কেন?

ছবিটি নেওয়া হয়েছে বলিউড হাঙ্গামা ইউটিউব চ্যানেল থেকে

ছবির Main প্লট:

৭২ হুরে ছবিটি নির্মাণ করেছেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক সঞ্জয় পুরন সিং চৌহান যিনি উল্লিখিত ছবিটির জন্যই ২০২১ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া তাঁর ডেবিউ ফিল্ম ‘লাহোর’ একটি সাড়া জাগানো ফিল্ম যার জন্য তিনি পেয়েছিলেন ‘ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার'(২০০৯)। ‘৭২ হুরে’ ছবির মধ্যে দিয়ে তিনি দেখাচ্ছেন ওসামা বিন লাদেন, আজমল কাসভ, মাসুদ আজহার, হাফিজ সাইদ এবং ইয়াকুব মেননের মত উগ্রপন্থী ইসলামিক মাওবাদী নেতাদের যারা আপন স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে মুসলিম জনজাতির তরুণ যুবকগণকে ধর্মীয় ভাবাবেগের দ্বারা প্ররোচিত করে। এবং তেমনি একটি ভাবাবেগ হল বাহাত্তর হুরে।

৭২ হুরে কি?

৭২ হুরে হল ৭২ জন কুমারী কন্যা। আসলে ট্রেলার এর মধ্যেই বলা হচ্ছে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষতিসাধন, রক্তপাত এইসবের দ্বারা যুবকগণ জান্নাতে ৭২ হুরের সন্ধান পাবে। এবং এই বার্তা নাকি মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরানেও লেখা রয়েছে। আসলে ছবির প্রধান নাম ৭২ হুরে করার কারণ এই যে ব্রেনওয়াশের অন্যতম চাবিকাঠি হল এই শব্দটি ‘৭২ হুরে’। যা তরুণ মুসলিমগণকে প্রলুব্ধ করে মাওবাদী জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলতে। এবং বোম্বলাস্ট, রক্তপাত, খুনোখুনি অর্থাৎ সমাজকে ব্যতিব্যস্ত করে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করে ইসলাম ধর্মকে প্রসারিত করতে।

ছবিটি নেওয়া হয়েছে বলিউড হাঙ্গামা ইউটিউব চ্যানেল থেকে

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে এত রকম খুনোখুনি ও সুইসাইডাল বোমব্লাস্ট এর ঘটনা প্রদর্শনের পরেও ছবিটি শান্তিমুলক কিভাবে হতে পারে? হ্যাঁ, এটি আসলে শুধুই প্রোপাগান্ডা তুলে ধরছে এমন নয়। এটিকে একটি সাইকোলজিক্যাল ফিল্মও বলা চলে। যেখানে ইনার কনফ্লিক্ট ছবির অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে। ছবির মেইন প্রটাগনিস্ট অভিনেতা পবন মালহোত্রা ও আমির বাশির ২ তরুণের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যাদের দ্বারা ভয়ঙ্কর কাজটি ঘটানো হবে। এবং পুরো ট্রেলার জুড়ে সেটিই দেখানো হচ্ছে। প্রথমে তাদের ৭২ হুরের প্রতি বিশ্বাস এবং ধীরে ধীরে তারা বুঝতে পারে তারা ধর্মীয় একটি যাঁতাকলে ফেঁসে গেছে। তারা এখন কি করবে? এই অন্তর্দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে ট্রেলারটি শেষ হয়। আসলে যে সকল ব্যক্তি ধর্মীয় ভাবাবেগে প্ররোচিত হয়ে উগ্রপন্থী কাজে জড়িয়ে পড়ে এবং তারপর তাদের অবস্থা কতটা ভয়ংকর হতে পারে — তা নিয়েই ছবিটি।

ছবিটি নেওয়া হয়েছে বলিউড হাঙ্গামা ইউটিউব চ্যানেল থেকে

শুধুমাত্র ট্রেলার টিকে যদি আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি তবে তার সিনেমাটিক টেকনিক্যালিটি অসাধারণ। ছবির সিনেমাটোগ্রাফি দুর্দান্ত। সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন চিরন্তন দাস যিনি ২০০২ সাল থেকে কাজ শুরু করেন। এবং এর আগে ‘Tanu Weds Manu’, ‘Tere Naal Love Ho Gaya’, ‘Sanam Teri Kasam’, ‘Pati Patni Aur Woh’ র মতো একাধিক বলিউড ছবিতে কাজ করেছেন। ছবিটি এডিট করেছেন পরিচালক নিজেই এবং তাঁর কাজও অসাধারণ। দারুন কিছু স্পেক্ট্যাকলস আমরা দেখতে পাই গোটা ট্রেলার জুড়ে। বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্যঞ্জস্য রেখে ছবিটির কালার টোন ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট রাখা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় ‘Schindler’s list’ এর মত সাদা কালোর মাঝে রঙিন কিছু কালার ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্দান্ত সেটের ব্যবহারও রয়েছে। এককথায় ট্রেইলারটির সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স দারুন। ৭ই জুলাই ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে প্রেক্ষাগৃহে। ছবিটির বিতর্কিত বিষয়বস্তুই হয়তো ছবিটির প্রচারে অনুঘটকের কাজ করবে।

ছবিটি নেওয়া হয়েছে বলিউড হাঙ্গামা ইউটিউব চ্যানেল থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *