Blog

নেই তাপস বাপি দাস, চলে গেলেন সব আদি ঘোড়া

Tapas Bapi Das Death

“তবুও কিছুই যেনো ভালো যে লাগেনা কেনো
উদাসী পথের ধারে মন পড়ে থাকে যেনো
কোথায় রয়েছে ভাবি লুকিয়ে বিষাদ তবুও।”

বিষাদগ্রস্ত আমরা সবাই, আর এ বিষাদ সহজে কাটার ও নয়। আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’-র অন্যতম আদি ঘোড়া তাপস বাপি দাস। বহুদিন ধরেই ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। গতকাল দুপুরে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

এই মৃত্যুর খবরটা বললেই সব বলা হয় না। তাঁকে সশরীরে হয়তো আমরা আর দেখতে পাবো না, এটা দুঃখের, যন্ত্রণার। কিন্তু, একজন সঙ্গীতপ্রেমী বাঙালিকে এটাই হয়তো বেশি করে ভাবাবে যে, বাংলার সুরে, বাংলার গানে আর হয়তো নতুন করে কোনো অনিয়ম ঘটবে না, চেনা ছক ভেঙে বিশ্বসঙ্গীতকে বাংলার একতারার সাথে আপন করে নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে মাতানোর ঘটনা হয়তো আর ঘটবে না। কারণ, ১৯৭৫ সালে যে একদল তরুণ গিটার, তবলা, স্যাক্সোফোন, ভায়োলিন, বাঁশি সব কে একসাথে মিলিয়ে তৎকালীন সমাজ ও রাজনীতিকে গানের অন্তঃসার রূপে গ্রহণ কিছু কালোত্তীর্ণ গান তৈরি করেছিল, সেই তরুণদের আজ কেউই আর জীবিত নেই। কিন্তু, তা বলে তাঁদের তৈরি করে যাওয়া গানের তারুণ্য এতটুকু কমেনি। কমেনি তার প্রাসঙ্গিকতা। আজ আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারি কিভাবে বোকাবাক্স, কেবলের দুনিয়া, মুঠোফোন আমাদের ঘরবন্দী করে রেখেছে, ছিন্ন করে দিয়েছে সম্পর্কের সুতোগুলো। আজ আমরা আর পথ ভুল করে খোলা জানালার কাছে ছুটে যেতে পারিনা, গতানুগতিক এক গতে নিয়ম বাঁধা জীবন কাটাই। কাশবনের জ্যোৎস্না আর দেখিনা, ডিঙি নৌকায় আর চড়ি না, প্রেমিকার ফোন আসবে বলে আশায় আশায় আর বসে থাকিনা। আসলে আমরা আর অনিয়ম করি না। বড়ো সস্তার জীবনযাপন করি। পৃথিবীটাকে আমরা বড়ো ছোটো করে ফেলেছি। তাই হয়ত আদি ঘোড়াগুলো ঘাস খেতে ছুটে গেছে কার্তিকের জ্যোৎস্নাময় অন্য প্রান্তরে!

উদন্ত NEWS ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *