নতুন ফিল্ম

প্রকাশ পেল ‘ব্যোমকেশ ও দূর্গরহস্য’র টিজার — Review of ‘Byomkesh O Durgorohsyo’ Teaser

দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার্স প্রযোজিত এ বছরের অন্যতম বড় স্কেলের ছবি হতে চলেছে ‘ব্যোমকেশ ও দুর্গ রহস্য’। তার উপরে নতুন ব্যোমকেশ হিসেবে দেব কিভাবে মানিয়ে নেন তা দেখতেও যথেষ্ট উৎসুক দর্শকরা। যদিও এই উৎসাহ ছিল না বললেই চলে। নানা মিডিয়া চ্যানেল সকলেই মোটামুটি ভাবে স্বীকার করে নিয়েছিল আর যাই হোক ব্যোমকেশ হিসেবে অন্তত দেব কে মানা যায় না। অজিত ও সত্যবতীর চরিত্রেও নতুন মুখ– অম্বরিশ ও রুক্মিণী। ফলে সব মিলিয়ে ছবি হওয়ার আগেই দর্শক নানাভাবে মুখ ঘুরিয়ে নিতে শুরু করেছিল। কিন্তু দেব আবারও প্রমাণ করে দিলেন কেন তিনি বাংলার অন্যতম বড় সুপারস্টার। একজন সুপারস্টার শুধুমাত্র কয়েকটি হিট ছবির মাধ্যমেই হয় না, হয় বারে বারে সে কিভাবে দর্শককে চমক দিতে পারে তার ভিত্তিতে। এবং সেই কাজটি এবারেও সম্ভবত অবলীলায় করতে চলেছেন দেব। একটি একটি করে ছবির পোস্টের আসার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকে জল্পনা-কল্পনা বাড়ছিল। নতুন ব্যোমকেশকে দর্শকের মেনে নিতে অসুবিধা হয়নি। অপরদিকে সত্যবতী হিসেবে রুক্মিণী মৈত্রর লুকও অসাধারণ লাগছিল। সঙ্গে অম্বরিশ কে অজিত হিসেবে যথাযথ মানিয়ে ছিল। তবে

উৎসাহের পারদকে এক ধাপ উপরে নিয়ে গেছিল ‘ব্যোমকেশ ও দুর্গ’ রহস্যের প্রি-টিজার। ছবির সিনেমাটোগ্রাফি বলুন, কালার গ্রেডিং বলুন, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং ভিডিওটিকে সঠিকভাবে কাটা– প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ছিল নিখুঁত পারফেকশন। আর দেবকে পুরোপুরি রিভিল যেমন করা হয়নি তেমনি আবার ক্যামেরা-আলোর কারসাজিতে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল তার লুকটাকে। অমন ভিসুয়াল spectacles কিন্তু ব্যোমকেশের অন্য যেকোনো ছবিতে আগে দেখা যায়নি। বারে বারে মনে হয়েছে যেন এক অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার ছবি দেখতে চলেছি। ব্যোমকেশের বাধা ছক ভেঙ্গে অনেক বেশি গ্র্যান্ড স্কেলে একে তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। এবং এই কথাগুলো আবারো প্রমাণ করে দিল ছবির টিজার। যেরকম হাইপ ক্রিয়েট হচ্ছে এবং ছবি যেভাবে তার মানকে বজায় রাখছে এমন চলতে থাকলে এই ছবিটি নিঃসন্দেহে এবারে টলিউডের অন্যতম সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবি হতে চলেছে। ছবির টিজার শুরু হয় দেবের ডায়লগ দিয়ে, “আমি নেতাও নই, অভিনেতাও নই, চিনলেন কিভাবে?” সেল্ফ রেফারেন্সিয়াল ডায়লগ এবং শুনতেও যথেষ্ট ভালো লাগছে। দেবের অভিনয় গোটা টিজার জুড়ে খুব বেশি দেখতে পাওয়া যায়নি। তবে দেবের বেশ কয়েকটি লুক এখানে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যা অন্য ব্যোমকেশের তুলনায় অনেক বেশি stylized। আর ব্যোমকেশকে সবসময় একই গোছের দেখতে হবে এমন তো কোন কথা নেই। শরদিন্দু বাবুর তৈরি করা আইকনিক চরিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল রেখেই এই ব্যোমকেশ তৈরি হয়েছে কিন্তু চরিত্রের লুক অনেক বেশি এলিগেন্ট বা ক্লাসি রাখা হয়েছে। গোটা টিজার জুড়ে দারুন কিছু spectacles রয়েছে। এটি যে বড় বাজেটের ছবি সেটা প্রত্যেকটি ফ্রেমই আপনাকে বলে দেবে। অজিতের ও খুব বেশি ভিজুয়াল নেই। সত্যবতীর কয়েকটি ঝলক আমরা দেখতে পাই। তাকে যথেষ্ট মানানসই লাগছে। ব্যোমকেশ ও সত্যবতীর দুই একটি ঝলকেও তাদের ভালো লাগছে। বেশ কিছু এস্টাবলিশিং শট এবং ওয়াইড শট রয়েছে যেগুলো

দুর্দান্তভাবে স্টেজ করা হয়েছে। টিজারে সাপের কামড়ের একটি সিকোয়েন্স রয়েছে যা আপনাকে অনেকটা ‘চাঁদের পাহাড়’-এর অন্যতম একটি আইকনিক সিনের কথা মনে করিয়ে দেবে। ছবির কাস্টিং এর ওপর যথেষ্ট নজর দেওয়া হয়েছে। ভালো ভালো অভিনেতা রয়েছেন এবং তাদেরকে চরিত্রের সঙ্গে যথাযথ মানাচ্ছেও। টিজারের সাউন্ড ডিজাইন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অসাধারণ। প্রচুর ambient সাউন্ড এবং কাট সাউন্ডের ইউজ রয়েছে। যে বিজিএম শুনতে পাওয়া যাচ্ছে সেটিও দারুন। সব মিলিয়ে একটা অন্যরকম ব্যোমকেশের ঝলক ধরা পড়ছে টিজারে। অনেক বেশি গ্র্যান্ড, অনেক বেশি লার্জার দ্যান লাইফ এই ব্যোমকেশ দর্শককে অবশ্যই বড় পর্দাতেই দেখতে হবে।

নতুন ফিল্ম Contact us

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *