Blogফিল্মি পার্সোনালিটি

রং-তুলিকেও কথা বলাতে পারতেন সত্যজিৎ

Satyajit Ray

Illustration of Satyajit Ray

সত্যজিৎ রায় একজন বাঙালি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সাহিত্যিক, মিউজিক কম্পোজার এবং গ্রাফিক ডিজাইনার। তিনি স্বয়ং এক ভুমিকাতে লিখেছিলেন – ‘Since I consider myself primarily to be a filmmaker and secondarily to be a writer of stories for young people, I have never taken my graphic design work seriously and I certainly never considered it worthy of being exposed to the public.’ সেই কারণেই বিভিন্ন সময় একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে তার কাজের উপযুক্ত পর্যবেক্ষণ হয়তো করেননি অনেকেই।

এই নিবন্ধটিতে সত্যজিৎ রায়ের করা বিভিন্ন প্রচ্ছদ, অলংকরণ, প্রতিকৃতি, ক্যালিগ্রাফি, ছবির পোস্টারে তাঁর সূক্ষ্ম ভাবনা চিন্তা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিল্পকলার আলোচনাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

সত্যজিৎ রায় একজন অসামান্য চিত্র পরিচালক একথা আমরা সকলেই জানি। তাঁর চিত্রশিল্পের ব্যাপারটিও আজকাল নানা রকম ব্লগ, পডকাস্ট, তাঁকে নিয়ে তৈরি সিনেমায়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। মারি সিটনের সঙ্গে তাঁর এক কথোপকথনে জানা যায় — “I never had an urge to become a painter. My approach was more literary and I thought of becoming an illustrator.” সেই কারণেই একজন নিখাদ চিত্রশিল্পী হিসেবে তাঁকে আমরা পাইনি বরং বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ, ইলাস্ট্রেশন, পোস্টার এইসবের মধ্যে দিয়েই তাঁর আঁকাআঁকির ব্যাপারটা প্রকাশ পেয়েছে।

যদিও তাঁর যে সকল শিল্পপ্রতিভা প্রকাশ পেয়েছে, তার মধ্যে একমাত্র চিত্রকলাই তিনি প্রকৃত তালিমের মধ্যে দিয়ে শিখেছিলেন। পরিবার সূত্রেই তিনি আঁকাআঁকির হাত পেয়েছিলেন এবং তারপরে ১৯৪০ এর মাঝামাঝি সময়ে মায়ের কথায় তিনি শান্তিনিকেতনের কলাভবনে আসেন পড়তে। এখানে আচার্য নন্দলাল বসু, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের সাহচর্যে প্রাচ্য শিল্পের প্রতি তাঁর অদ্ভুত শ্রদ্ধাবোধ জন্মায় এবং প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সমন্বয়ে তিনি নিজস্ব একটি স্টাইল উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন। তাঁর কাজগুলি কখনো যেমন এসেছেন এম সি এশার, ঠিক তেমনি ঘুরে ফিরে এসেছেন যামিনী রায়, নন্দলাল বসুরা।

সত্যজিৎ রায় তাঁর জীবনের প্রথম প্রচ্ছদ আছেন তাঁর বাবা সুকুমার রায় রচিত ‘পাগলা দাশু’ গল্পের উপর। ১৯৪০ এ নিজের আঁকা প্রথম প্রচ্ছদেই তিনিই যে জিনিসটি সফলভাবে করতে পেরেছিলেন তা হল গল্পের প্রধান বিষয়বস্তুর ভাবটা দর্শকের কাছে আর্টের মধ্যে দিয়ে এমন ভাবে পৌঁছে দেওয়া যাতে সেটার সম্পূর্ণ রসাস্বাদন যেমন সম্ভব, তেমন কোনোভাবেই তার শৈল্পিক ভাব নষ্ট করে বা তাকে সস্তা বা খেলো বানিয়ে জনপ্রিয় করতে চাওয়ার চেষ্টা না করা। তার জীবনের সমগ্র কাজকেও যদি আমরা অনেকে মিলে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি, তবে আমরা দেখতে পাবো তিনি তার দর্শকদের প্রতি অদ্ভুত রকম সৎ ছিলেন। তিনি কোনভাবেই কোন প্রকার অসুস্থ বিনোদন বা তথাকথিত সস্তা ছবি বানিয়ে দর্শকের মনোরঞ্জন করার পক্ষপাতী ছিলেন না। বইয়ের প্রচ্ছদের ক্ষেত্রেও আমরা দেখব ছোটদের বই হলেও তাকে নিতান্তই নানারকম রঙিন এবং পশু পাখিতে না ভরিয়ে খুব সুচিন্তিত উপায়ে বইয়ের বিষয়বস্তুকে ছোটদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতেন যাতে ছোটদের মজার ভাবটিও নষ্ট না হয় আবার একঘেয়ে শিশুসুলভ ভঙ্গী থেকে খানিকটা নতুন কিছু করা যায়, প্রকৃতপক্ষে তিনি তার দর্শককে বা পাঠককে কখনো বোকা ভাবতেন না।

১৯৪৮ এ তাঁর করা একটি ডিজাইনের কথাই ধরা যাক। দীপঙ্কর ভবন থেকে শিশুদের অ-আ-ক-খ শেখার জন্য বিমল চন্দ্র ঘোষ এর হাতে খড়ি বইয়ের প্রচ্ছদের ক্ষেত্রে তাক লাগানোর মত অভিনবত্ব এনেছিলেন তিনি। প্রচ্ছদটিকে এমন ভাবে ডিজাইন করেছিলেন হঠাৎ করে ওটাকে দেখলে ছোটদের স্লেট বলে ভুল হবে। কালো অংশটার পাশে হলুদ রঙে কাঠের অংশটা অদ্ভুত নিখুঁতভাবে তৈরি করেছিলেন ইলিউশনের মাধ্যমে। বাস্তবের প্রতিটা ডিটেলস ফলো করে এমন পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রচ্ছদ অংকনকে শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য বললে কম বলা হয় বরং তৎকালীন প্রচ্ছদ অলংকরণের প্রেক্ষাপট থেকে বলা যায় সত্যজিতের এমন ডিজাইন নিঃসন্দেহে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছিল। সত্যজিৎ তাঁর সেরা প্রচ্ছদ গুলি অঙ্কন করেছিলেন সিগনেট প্রেসে থাকাকালীন সময়ে।

কলাভবনের পড়া শেষ করে কয়েক মাস অপেক্ষা করার পর ১৯৪০ নাগাদ সময়ে তিনি ডি.জে কিমার বিজ্ঞাপন অফিসে জুনিয়র কমার্শিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে যোগদান করেন। কলাভবনের বিশুদ্ধ অঙ্কন শিক্ষার সঙ্গে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের সঠিক যোগসাজস গড়তে সক্ষম হয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। ধীরে ধীরে নিজের কাজের জোরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কলকাতার অন্যতম সেরা কমার্শিয়াল আর্টিস্ট বনে গিয়েছিলেন তিনি। আর ঠিক এই সময়েই প্রচ্ছদ বিপ্লবের পথ প্রস্তুত হতে শুরু করে ডি.কে গুপ্তার হাত ধরে সিগনেট প্রেসের বই প্রচ্ছদ অলংকরণের দায়িত্ব পান এবং পান সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ এক পরিবেশ। চল্লিশের দশকের গোড়া থেকেই শুরু করে প্রায় 1960 পর্যন্ত সিগনেট থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ টি প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন তিনি। এছাড়া, ইলাস্ট্রেশন ও টাইটেল পেজ তিনিই করতেন। এখান থেকে প্রকাশিত তার বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাজ গুলির মধ্যে হল ক্ষীরের পুতুল, খাই খাই, হুমায়ুনের মানুষ খেকো বাঘ, পদিপিসির বর্মীবাক্স, বনলতা সেন, পলাতক, জোনাকি ইত্যাদি।

এরপরে ফিল্মমেকার হিসেবে সত্যজিতের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং ডিজাইনের কাজ বেশ কমে যায়। কিন্তু ১৯৬১ তে আবার শুরু হয় তাঁর গ্রাফিক ডিজাইনের কাজগুলি। মূলত সন্দেশের হাত ধরেই তাঁর ডিজাইনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। সন্দেশে প্রকাশিত প্রফেসর শঙ্কুর গল্পগুলিকে নিয়ে 1965 তে নিউস্ক্রিপ্ট থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম বই ‘প্রফেসর শঙ্কুর কান্ডকারখানা’ ।প্রফেসর শঙ্কুর মোট ছটার মতো বই তার জীবনকালে প্রকাশ হয়েছিল যার সবকটির ডিজাইন তিনিই করেছিলেন। আমরা যদি এই ছয়টি বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করি তবে দেখতে পাব প্রতিটি প্রচ্ছদেই তিনি কমবেশি ব্যবহার করেছিলেন ফ্ল্যাট রং এবং আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো প্রতিটি বইতে শঙ্কুর অ্যাডভেঞ্চারগুলোর সাফল্য বা ধরন বা শঙ্কুর যে কৃতিগাথা তাকে স্মরণ করেই রাখা হতো বইয়ের নাম এবং সেটির সাথে সামঞ্জস্য মিলিয়েই আঁকতেন প্রচ্ছদ। যেমন ‘সাব্বাস শঙ্কু’তে পকেটে হাত ঢোকানো শঙ্কুর দাঁড়ানোর কায়দা বা দৈহিক ভঙ্গি কোন ফিল্ম হিরোর চেয়ে কম নয়।। শংকুর নামটির উপর নিজের পা রেখে শঙ্কু নিজের একটা শক্তিশালী প্রেজেন্স পাঠকদের অনুভব করাতে চাইছেন। আবার চতুর্থ বই ‘মহাসংকটে শঙ্কু’র মধ্যে শঙ্কুও যে বিপদে পড়তে পারেন বা ভয় পেতে পারেন সেই ভাবটাই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে প্রচ্ছদ এর মধ্যে দিয়ে।

ফেলুদার বইয়ের প্রচ্ছদে বারেবারে ফেলুদার হিরোইজমের ভাবটাই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। লম্বা চেহারার ইন্টেলেকচুয়াল হিরো প্রধান আকর্ষণ হওয়ার কারণেই বরাবরই প্রচ্ছদের সবচেয়ে বেশি জায়গা জুড়ে থাকতেন ফেলুদা । সঙ্গে যে অঞ্চলে বা যেখানে ফেলুদা রহস্য উদঘাটন করতে যাচ্ছেন, সেখানকার ব্যাকড্রপকে বা সেখানকার উল্লেখযোগ্য কিছু বস্তুকে ব্যাকগ্রাউন্ডে দিয়ে সেই স্থানটি সম্পর্কে দর্শককে মনে করিয়ে দিতেন সত্যজিৎ। যেমন ‘বাদশাহী আংটি’তে লখ্নৌয়ের রাস্তা, বাড়িঘর, টাঙ্গা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড। আবার ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ এ বেনারসের বড় দুটি বাড়ির ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে বিশ্বনাথের মন্দির। আর দুটি বাড়ির মাঝখানে লাগানো একটা পাইপ ধরে ঝুলছে একটি বাচ্চা ছেলে। প্রতিটি প্রচ্ছদ খেয়াল করলেই দেখতে পাব আমরা, ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে ফিগারগুলোর কনট্রাস্ট তৈরি করার মধ্য দিয়ে বারেবারে ক্রিয়েট করেছেন অদ্ভুত সাসপেন্স।

সত্যজিৎ রায় স্বয়ং বলেছেন, বিশুদ্ধ চিত্রকলা অপেক্ষায ইলাস্ট্রেশন বা ডিজাইনের প্রতি বরাবরই তাঁর ঝোঁক বেশি ছিল, কারণ ইলাস্ট্রেশনের মধ্যে রয়েছে একটা Literary Approach, একটা গল্প বলার প্রবণতা। গল্প বা লেখা অনুযায়ী লেখকের ভাবটি বুঝে ক্যারেক্টারকে স্টাডি করে ঘটনা প্রবাহকে বোঝানোই ইলাস্ট্রেশনের কাজ। সত্যজিতের প্রথম ইলাস্ট্রেশন প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে মৌচাক পত্রিকায় কামাখ্যা প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের ‘অ্যাটাচি কেস’ গল্পকে নিয়ে।প্রথম থেকেই ইলাস্ট্রেশন ড্রইং এ মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায়। লাইন ড্রইং এর ওপরে তাঁর বেশ দক্ষতা ছিল। ১৯৫০ এ সুকুমার রায়ের ‘খাই খাই’ এ সত্যজিৎ করেছিলেন গোটা কতক ইলাস্ট্রেশন, যা গল্প মাফিক তো বটেই এবং সবচেয়ে বড় কথা চমৎকার ভাবে গল্পের ভাবধার সঙ্গে নিজের তুলি বা নিবটিকে সেট করে নিতে পারতেন সত্যজিৎ। তাই ইলাস্ট্রেসন হতো যথার্থই Story Driven।

ডি.জে কিমায় থাকাকালীন তার করা বিজ্ঞাপন গুলির খুব বেশি পাওয়া না গেলেও একটি বিজ্ঞাপনের কথা আলাদা করে বলতেই হয়, তা হলো প্যালোড্রিনের বড়ির বিজ্ঞাপন। এখানে তিনটি স্বভাবের পরিবারের লোকজন এবং তাদের জিনিসপত্রকে সত্যজিৎ আঁকেন ওয়াইড ফ্রেমে। আশ্চর্য হতে হয় এলিমেন্ট ডিটেলস এর ওপর তাঁর দখল দেখে।

ফিল্মে পোস্টার ডিজাইন এর ক্ষেত্রেও তিনি রেখেছিলেন আশ্চর্য প্রতিভার ছাপ। ফিল্মের পোস্টার ফিল্মের অ্যাডভার্টাইজিং এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবলম্বন করে তো বটেই, সেইসঙ্গে ফিল্মের বিষয়বস্তুকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বুদ্ধিমত্তার সাথে ওই পোস্টার এর মধ্য দিয়ে convey করার যে ব্যাপারটা, সেটা সবচেয়ে সফলভাবে বোধ হয় এই উপমহাদেশে সত্যজিৎ রায়ই বুঝিয়েছিলেন।

পথের পাঁচালী ছবির পোস্টারটি দেখলে আমরা দেখব একটি বৃত্তাকার অংশের মধ্যে ছবির তিনটি প্রধান চরিত্র রয়েছে। যেখানে দিদি দুর্গা, ভাই অপুর চুল আঁচড়ে দিচ্ছে এবং তাদের মা তাদের এই দৃশ্যটি দেখে উপভোগ করছেন। বৃত্তাকার অংশের বাইরে আলপনা দেওয়া রয়েছে। বৃত্তাকার অংশের মধ্যে আঁকা কিছু নকশা দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে গ্রাম বাংলার এক সুখী পরিবারকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে। অপরদিকে নায়ক ছবির পোস্টারে ক্যালিগ্রাফি টাই ছবি সম্পর্কে আসল মেসেজটা দিচ্ছে। ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে নায়ক কথাটি এক টানায় লেখা হয়েছে যেন মনে হচ্ছে কোন ফিল্মস্টারের সই। সঙ্গে ‘য়’ এর ফুটকিতে ব্যবহার করেছেন একটি তারকা চিহ্ন বা স্টার। চারুলতা ছবির পোস্টারে মোটা দাগের স্ট্রোকে চারুলতার মুখটিকে অঙ্কন করেছিলেন সত্যজিৎ। পোস্টারে আর কোনো ক্যারেক্টার না থাকায় বেশ বোঝা যাচ্ছিল ছবিটি ডমিনেটেড হচ্ছে চারলতা দ্বারা।। ব্রাশের স্ট্রোকে কোথাও যেন চারুলতার একাকীত্বতা সূক্ষ্ম অথচ নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং তাঁর সমস্ত ডিজাইনের মধ্যে একটি নিখুঁত আর্টওয়ার্ক হিসেবে চিহ্নিত হয় ‘দেবী’ ছবির পোস্টার। দেবী কথাটি লেখার মধ্যে দিয়েই যাবতীয় কেরামতি দেখিয়েছেন সত্যজিৎ রায়। দেবী কথাটিকে এমন ভাবে লেখা হয়েছে যেন মনে করিয়ে দেয় দেবী মূর্তির পিছনে থাকা চালচিত্রের কথা এবং ‘ব’ এর ‘ী’ অংশটাকে যেন অনেকটা মনে হয় জমিদার বাড়ির খিলান এর মত। গোটা কথাটি থেকে অদ্ভুত অলৌকিক বা দৈবিক জ্যোতির যেন বিচ্ছুরণ ঘটছে। ছবির মুখ্য চরিত্র দয়াময়ীর মুখটিকে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে যেমন ছবির বেশিরভাগ অংশ জুড়ে কে থাকবেন তা বলা হচ্ছে ঠিক তেমনি দয়াময়ীর মুখটাকে আলোছায়ায় দুই ভাগে ভাগ করে তার জীবনের আলো ও অন্ধকার দুটি দিক যেন তুলে ধরছেন পরিচালক।

আরো কত শত ইলাস্ট্রেশন, ক্যালিগ্রাফি, টাইটেল পেজ, টাইটেল কার্ড, কস্টিউম ডিজাইনার, আর্ট ডিরেকশন এর কথা এই ছোট্ট নিবন্ধটিতে তুলে ধরা গেল না। আসলে সত্যজিৎ রায় যে শুধু শিল্পী ছিলেন তা তো নয়, দীর্ঘদিনের ঘষা-মাজাতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন চলতি-ফিরতি ‘শিল্প সম্ভার’।

বি দ্রঃ রং তুলির সত্যজিৎ – দেবাশীষ দেব – এই বইটি বিশেষ ভাবে সহায়তা করেছে আমায় এটি লিখতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *