ফিল্ম থিওরি

Homage: A Brief Article in Bengali – হোমাজ কি?

শিল্পকে কখনো সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এ হল হাওয়ার মতো। প্রকৃতির খেয়ালে হাওয়া সৃষ্টি হয়, তারপর তা ছড়িয়ে পড়ে দিগবিদিগ। এই হাওয়ার উপকরণগুলোকে ব্যবহার করে বা কাজে লাগিয়ে কেউ তৈরি করতে পারে নতুন কোনো হাওয়া। সেই হাওয়াকে আবার ছেড়ে দেয়। কোনো হাওয়া পরিণত হয় ঝড়ে, আবার কোনো হাওয়া নিয়ে আসে শান্তি। শিল্প বা আর্টের ব্যাপারটাও প্রায় একইরকম। কোনো ব্যাক্তি কোনো একটি আর্ট তৈরি করে। সময়ের সাথে তা ছড়িয়ে পড়ে এদেশে ওদেশে। হয়তো অন্য কোনো ব্যাক্তি সেই আর্ট দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তৈরি করে নতুন কোনো আর্ট। সেই আর্টে দেখা যায় আগের ব্যাক্তির প্রভাব। এইভাবে আর্টের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশান্তরে। এই প্রভাব বা অনুপ্রেরণা ব্যাপারটা কখনো শিল্পী জেনে করেন, কখনো বা মোহিত হয়ে খেয়ালেও বানিয়ে ফেলেন। কখনো বা এই প্রভাবে মিশে থাকে অনেকখানি শ্রদ্ধা। এই প্রভাব বা অনুপ্রেরনার পোশাকি নামই হল Homage।

এই হোমাজ(Homage) প্রদান করা হয় কোনো ব্যাক্তিকে সম্মান জানিয়ে। তার কাজকে শ্রদ্ধা জানিয়ে। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে হোমাজ দেওয়ার ব্যাপার চলছে বহুদিন ধরে। কিন্তু চলচিত্র বা সিনেমার জন্ম তো এই সেদিনের ঘটনা! তাই এই শিল্পে হোমাজ দেওয়ার প্রক্রিয়াও নতুন। আজ আমরা খানিক এ বিষয়েই আলোচনা করবো।

বিশ্বের অন্যতম এক খ্যাতনামা চলচিত্রকার হলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। জর্জ লুকাসের সাথে একত্রে তিনি বানিয়েছিলেন ইন্ডিয়ানা জোন্স। প্যারামাউন্ট ফিল্মের প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিটি ১৯৩০ এবং ‘৪০ এর দশকের অ্যাডভেঞ্চার টিভি সিরিয়াল থেকে অনুপ্রাণিত ছিল। লুকাসের নির্মিত ‘Star Wars’ ও সামুরাই ও ওয়েস্টার্ন ফিল্মের দ্বারা প্রভাবিত ছিল বলে মনে করা হয়।

একজন সত্যিকারের দক্ষ হোমাজ প্রদানকারী এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা চলচিত্রকারদের মধ্যে একজন হলেন কুইন্টিন ট্যারেন্টিনো(Quentin Tarantino)। তার প্রায় সব ছবিতেই কোনো না কোনো প্রভাব দেখা যাবে। এক্ষেত্রে আমরা লিস্টের মাধ্যমে এটিকে আলোচনা করতে পারি-

Reservoir Dogs(1992) – Django(1966)- কান কাটার দৃশ্য

Pulp Fiction(1994) – 8 1/2 (1963) – John Travolta এবং Uma Thurman এর নাচের দৃশ্য

Pulp Fiction(1994) – Kiss Me Deadly(1955) – সুট্যকেস খোলার দৃশ্য

Jackie Brown(1997) – The Graduate(1967) – সিনেমার টাইটেল দেখানোর স্টাইল

Kill Bill Vol 1(2003) – City Of The Living Dead(1980) – গোগোর চোখ থেকে রক্ত পড়ার দৃশ্য

Kill Bill Vol 1(2003) – Game Of Death(1978) – ব্রাইডের তলোয়ার নিয়ে অ্যাকশন করার দৃশ্য

Kill Bill Vol 1(2003) – Death Rides A Horse(1966) – ব্রাইডের চোখে ক্র্যাশ জুম

Kill Bill Vol 1(2003) – Samurai Fiction(1998) – তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করার দৃশ্য

Kill Bill Vol 2(2004) – Blade Runner(1982) – চোখ তুলে নেওয়ার পর ছটপটানির দৃশ্য

Kill Bill Vol 2(2004) – The Good, The Bad, The Ugly(1966) – আহত ব্রাইডের ক্লোজ আপ

Inglorious Basterds(2009) – Unforgiven(1992) – মাঠ এবং খামার বাড়ির wide shot

Trantino র মতো Brian De Palma(Scarface ছবির পরিচালক) -ও অত্যন্ত ভাবে আমেরিকা এবং বিভিন্ন দেশের চলচিত্র দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং তাদের এই হোমাজ প্রদর্শনের কারণে অনেক ফিল্ম বোদ্ধাই তাদের copycat বলে উল্লেখ করেছেন।

আমাদের ভারতবর্ষেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিচালক বিভিন্ন পুরনো পরিচালককে সম্মান জানিয়ে হোমাজ প্রদর্শন করেছেন। যেমন- ‘Monica O My Darling’ ছবির পরিচালক রেট্রো বলিউডকে হোমাজ দিয়ে ছবিটি বানিয়েছেন। ‘Chennai Express’ DDLJ কে ট্রিবিউট দিয়ে ছবি বানিয়েছে। আবার শ্যাম সিংহ রায় ছবিতে বাঙালি পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে হোমাজ দিয়ে ছবিটি বানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *