ফিল্ম থিওরি

Mise en scene এর ডিটেল সম্পর্কে কিছু কথা- What is Mise en scene?

ফ্রেঞ্চ শব্দ ‘Miz on senn’ থেকে এসেছে Mise en scene, যার অর্থ ‘What is put onto the stage’। আমরা যখন কোনো সিনেমা দেখি তখন আমরা সেই সিনেমায় যা যা দেখতে পাই তার সবকিছুকেই একত্রে Mise en scene বলে। আবার শুধু দেখতে পাওয়াকে ধরলেই এর গণ্ডি শেষ হয়ে যায় না। মডার্ন সিনেমায় শব্দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই সাউন্ড ডিজাইন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দুটোই এর মধ্যে পড়ে। সেইভাবে দেখতে গেলে এর মধ্যে মোটামুটি ২০ থেকে ২২ খানা element ঢুকে পড়বে। কিন্তু আমরা মোটামুটি আলোচনা করব এর প্রধান কিছু element নিয়ে। যথা- Light, Color, Costume, Actor, Sets, Props, Location, Camera angle, movement আর sound। আসলে Mise en scene হল সেই হাতিয়ার যার দ্বারা এক একটি ছবির মাধ্যমেই ডিরেক্টর গল্প বলার চেষ্টা করেন, যাকে বলা হয় visual storytelling।

“ইমেজ ও ধ্বনি। ইমেজ এখানে শুধু ছবি নয়, বাঙ্ময় ছবি। অর্থাৎ ছবির ছবিত্বেই ছবির শেষ নয়, শুরুও নয়। যেমন শুরু ও শেষ পেইন্টিংয়ে। এখানে মুখ্য হল ছবির অর্থ। এক একটি ছবি এক একটি বাক্য। সব মিলিয়ে পুরো বক্তব্য।” — সত্যজিৎ রায়

আর এই বাক্যগুলির শব্দগুলো হলো lighting, color, camera, actor, sets, props ইত্যাদি। এই শব্দগুলিকে ঠিক ভাবে সাজানোর মাধ্যমেই বাক্যগুলো অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই কারণে Mise en scene এর প্রতিটি aspect এর প্রতি নজর দেওয়া উচিত। কারণ এটি দর্শককে বোঝায় চরিত্রগুলো কোথায় আছে, কি করছে, কিভাবে করছে। ডায়লগ ছাড়াই আমরা এগুলো বুঝতে পারি। প্রতিটি সিনেমাতেই স্বাভাবিকভাবে Mise en scene থাকে কিন্তু সব সিনেমার ভিসুয়াল স্টোরি টেলিং সমান হয় না। দক্ষ পরিচালক ছবির এক একটি ফ্রেমকে গল্প বলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন ফলে স্বাভাবিকভাবে Mise en scene হয়ে ওঠে পরিপাটি এবং অর্থপূর্ণ।

ধরা যাক, কোনো একটি দৃশ্য শুরু হচ্ছে যেখানে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে মুখোমুখি বসে আছে এবং তাদের সামনে আছে পরিপাটি করে সাজানো টেবিল। দুজনের সামনে দুটো কফি। পাশাপাশি আরো কিছু টেবিল দেখা যাচ্ছে। প্রত্যেকে কিছু না কিছু খাচ্ছে, চা কফি সঙ্গে পকরা বা অন্য কিছু আছে। অর্থাৎ লোকেশন, সেট, প্রপস দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে এটা একটা কফি শপ বা ক্যাফেটেরিয়া। আবার এই ক্যাফে লোকেশনটাও আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে ছেলেটি ও মেয়ে কিছু কথা বলতে এসেছে বা প্রেম করতে এসেছে। যেমন এটা ক্যাফে না হয় বিয়ে বাড়ি হলে ব্যাপারটা অন্যরকম হতো। অর্থাৎ লোকেশন এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা পালন করছে। আরো ধরা যাক ছেলেটির মাথায় চুল বড় বড় এবং উসকো খুসকো ও তার জামাটাও খুব দামি নয়। খুব সস্তা ফুটের জামা উলটো দিকে মেয়েটি বেশ পরিপাটি এবং দামি পোশাক পড়ে রয়েছে। তাদের বয়সও ধরা যাক ১৯-২০। এই সমস্ত কিছু মিলিয়ে মিশিয়ে কিন্তু আমরা কোনো ডায়লগ বলার আগেই অনেক কিছু আন্দাজ করতে পারি গল্প সম্পর্কে বা দৃশ্য সম্পর্কে। Mise en scene আসলে আমাদের বুঝিয়ে দেয় দৃশ্যে কি হচ্ছে বা কি হতে চলেছে।

টুকরো টুকরো scene জুড়েই একটি সিনেমা তৈরি হয়। যখন আমরা কোনো scene দেখতে শুরু করি তখন ওই scene এর লোকেশন কিন্তু আমাদের বুঝিয়ে দেয় চরিত্রগুলো কোন ওয়ার্ল্ডে রয়েছে এবং গল্প সম্বন্ধেও কিন্তু সেখান থেকেই আইডিয়া করা শুরু হয়ে যায়।। আর এখানে লোকেশন বলতে সবটা মিলিয়ে অর্থাৎ সেটিং ও props মিলিয়ে। ধরা যাক, আমরা দেখলাম একজন ক্যারেক্টার মুখে সিগারেট ধরে খুব মন দিয়ে ম্যাগনিফ্লাইং গ্লাস দিয়ে উবু হয়ে বসে একটি খোলা ম্যাপের উপর কি যেন পড়ছে। তার পাশে বেশ কিছু পুরনো গোছের বই ছড়ানো সেই মুহূর্তেই আমরা মোটামুটি বুঝে যাব চরিত্রটি একজন ঐতিহাসিক বা ইতিহাস সম্পর্কিত কোন শিক্ষক। আবার কস্টিউম মেকাপ ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ধরা যাক চরিত্রটির বেশ ঝাকরা ঝাঁকড়া চুল, বেশ লম্বা দাড়ি, জামা কাপড়ে কোনো পারিপাট্য নেই, নোংরা ময়লা। এখানে actor কি করছে, কি তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সেটাও কিন্তু Mise en scene এর মধ্যেই পড়ে। যদি আমরা দেখি চরিত্রটি অস্থির অস্থির ভাবে মানচিত্রের ওপর খুব মন দিয়ে ম্যাগনেফাইং গ্লাস দিয়ে কিছু খুঁজছে তাহলে আমরা নিশ্চয়ই বুঝে যাব কোন নকশা কোন সংকেত বা ঐতিহাসিক কোনো এডভেঞ্চারের জন্যই তৈরি হচ্ছেন ব্যক্তি বা এই সংক্রান্ত কিছু।। এর সঙ্গে মানানসই সাউন্ড ডিজাইন scene টিকে আরও enhance করতে পারে। Mise en scene এর কেরামতি হলো ডায়লগ বা voice over ছাড়াও দর্শককে বুঝিয়ে দেওয়া কি হচ্ছে, কি হতে চলেছে, কিভাবে হচ্ছে এই ইত্যাদি।

‘নায়ক'(১৯৬৬) ছবির দৃশ্য

‘নায়ক'(১৯৬৬) ছবির এই scene টার কথাই ধরা যাক। যেখানে উত্তম কুমার ঘরে এলেন। এদিকে ওর ম্যানেজার ফোন ধরে সিরিয়াস মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সব কিছু ডিপ ফোকাসে। ব্যাগ গোছানোর সময় উত্তম কুমার জিজ্ঞেস করলেন ‘কে?’ এবং তারপর ম্যানেজার উত্তর দিলেন ‘হিরোইন’। সেখান থেকে চোখে সানগ্লাস পড়ে সিগারেট খেতে খেতে কথা বলার এই পুরো সিনটায় বিশেষ কোন সেট, প্রপস না থাকলেও Mise en scene এর জন্য যথেষ্ট ভালো একটি উদাহরণ। হিরোইন কথাটি শোনার পর মহানায়কের মুখের এক্সপ্রেশন অনেক কিছু বলে দেবে এরপর একদম মুখের সামনে ক্যামেরার ক্লোজআপ হালকা সাইড থেকে, কালো চশমা দিয়ে চোখ ঢাকা এবং ঠোঁটের একপাশে সিগারেটের নেওয়া অবস্থাতে তার মুখের ভাবভঙ্গি— এইসব মিলিয়ে ডায়লগ ছাড়াও যেন তার এবং নায়িকার সম্পর্ক সম্বন্ধে অনেক কিছু তথ্য দর্শককে দিয়ে দিতে পারে।

One thought on “Mise en scene এর ডিটেল সম্পর্কে কিছু কথা- What is Mise en scene?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *