ফিল্মি পার্সোনালিটি

‘Mone Pore’ an memoir by Tapan Sinha – তপন সিনহার স্মৃতিকথা ‘মনে পড়ে’

Memoir Mone Pore

 

 

লন্ডনে পৌঁছলাম ১৯৫০ সালে। কতদিন আগেকার কথা, ঠিক মনে নেই। তবে সাহেবদের দেশে তখন গ্রীষ্মকাল। তখনও জেট প্লেন আসেনি । কস্টেলেশন ফ্লাইটে দীর্ঘ, ক্লান্তিকর যাত্রা ।

কলকাতা থেকেই পাইনউড স্টুডিয়োতে ঢোকার ব্যবস্থা করেছিলাম । “দি রিভার’ ছবির শব্দযন্ত্রী চার্লস পুলটনকে জানিয়েছিলাম আমার অভিপ্রায় । ওখানকার ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলে সব ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি । এ ব্যাপারে আর একজনের কাছেও আমি ঋণী, তাঁর নাম জর্জ রিয়ার ডেন—জে. আর্থার র‍্যাঙ্ক অর্গানাইজেশনের ভারতবর্ষের কর্তা । লাইটহাউসের উপরে বিরাট অফিস ছিল তাঁর। যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ প্রোপাগ্যান্ডা ছবির প্রিন্ট আমাদের কলকাতার ল্যাবরেটরি ফিল্ম সার্ভিস থেকে হত । সেই সূত্রে জর্জের সঙ্গে পরিচয়। তিনি সোজা স্টুডিয়োকে আমার ব্যাপারে জানান। জে. আর্থার র‍্যাঙ্ক অর্গানাইজেশন তখন পাইনউড স্টুডিয়োর মালিক । সুতরাং অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ।

র‍্যাঙ্ক অর্গানাইজেশন তখন গ্রেট ব্রিটেন জুড়ে প্রায় চারশো সিনেমা হল চালাত । অধিকাংশ ব্রিটিশ ছবিরই তারা প্রযোজক। কোটি কোটি পাউন্ডের কারবার, কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। হলিউডের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি । ফলে দেউলিয়া হয়ে যায় পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে, আমি লন্ডনে পৌঁছনোর সাত-আট বছর পরে ।

লন্ডনে উঠলাম ওয়াই.এম.সি.এ.-তে । পরের দিন পাইনউড স্টুডিয়োর ম্যানেজার মিস্টার ক্রোহার্স্ট-কে টেলিফোন করি তাঁর বাড়িতে । তিনি পরের দিন সকালেই স্টুডিয়োতে দেখা করতে বললেন । সব ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছিলেন জর্জ আর পুলটনের সুপারিশের দরুন ।

রাসেল স্কোয়ার টিউব স্টেশন থেকে পিকাডেলি লাইনের শেষ স্টেশন আক্সব্রীজ। সেখান থেকে বাসে মিনিট দশেকের পথ—বাস থামত একেবারে পাইনউড স্টুডিয়োর গেটে। বিশাল স্টুডিয়ো, প্রায় ৫০/৬০ একর জমি। র‍্যাঙ্ক অর্গানাইজেশনের আরও একটা স্টুডিয়ো ছিল— ডেনহ্যাম, ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্টুডিয়ো। স্টুডিয়োর মধ্যে একটি বিশাল জঙ্গলও ছিল । সেখানে শুটিং হয় ‘রবিন হুড’ ছবির। আমি যখন গেছি তখন ডেনহ্যাম বন্ধ । আমাকে মিস্টার ক্রোহার্স্ট পরিচালক চার্লস ক্রাইটনের ইউনিটে ঢুকিয়ে দিলেন, পর্যবেক্ষক শব্দযন্ত্রী হিসাবে ।

আমাদের সঙ্গে ওঁদের স্টুডিয়োর যন্ত্রপাতির অনেক তফাত। আধুনিক সাজসরঞ্জাম দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কত রকমের ছোট বড় ক্রেন, কত রকমের ডলি আর ক্র্যাবডলি, যা আমি আগে দেখিনি। পরিচালক যে ধরনের শট চাইতেন, তা-ই পেতেন । শব্দযন্ত্রী ফ্লোরে বসেই সাউন্ড কন্ট্রোল করে । রেকর্ডিং হয় উপরের একটি ঘরে । আমার স্থান হল শব্দযন্ত্রীর পাশে একটি চেয়ারে । সুতরাং যা চাইছিলাম তা-ই পেলাম। পেলাম একটি চিত্রনাট্যের কপি আর সব কিছু দেখার সুযোগ ।

যতদূর মনে পড়ে ছবির নাম ‘দি হান্টেড’। অভিনেতা তরুণ ডার্ক বোগার্ডে, পরবর্তীকালে যিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছিলেন। হলিউডের এম.জি. এম. থেকে ইতালির ভিসকন্তি, নানা পরিচালকের ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তখন একেবারে নবাগত যুবক। ছবি আঁকা ছিল তাঁর আসল নেশা, ছবিতে অভিনয় করাটা পেশা। তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় । আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁর মুখে কোনওদিন আগেকার দিনের অভিনেতাদের কথা শুনিনি। শুধু চিত্রশিল্পীদের কথা । গত শতাব্দীর দেগা, ভ্যান গখ্ থেকে এই শতাব্দীর পিকাসো, ডালি সম্বন্ধে অনর্গল বলে যেতে পারতেন। তবে বেশি বলতেন না। ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। প্রয়োজনও দেখিনি । তাঁর অভিনীত অনেক ছবি দেখেছি। অভিনয় যে খুব একটা ভাল লেগেছে তা নয় ।

পরিচালক চার্লস ক্রাইটন সে-যুগের প্রথম সারির পরিচালকদের একজন। তাঁর হাতে কমেডি ভাল খুলত—নির্ভেজাল ব্রিটিশ কমেডি । পিটার সেলার্স-কে নিয়ে কিছু ছবি করেছিলেন। আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছিল অ্যালেক্ গিনেস অভিনীত ‘ল্যাভেন্ডার হিল মব । মানুষ হিসাবে ছিলেন নিরহঙ্কারী, উদার। শুটিং-এর অবসরে গল্প করতেন আমার সঙ্গে । আলোচনার বিষয় ছিল ভারতবর্ষ আর ক্রিকেট। ছবির কথা কোনওদিন হয়নি । পরবর্তীকালে পৃথিবীর বিরাট বিরাট পরিচালকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, কিন্তু ইচ্ছা করেই কোনওদিন ছবি নিয়ে আলোচনা করিনি। যা বলবার ছবির মাধ্যমেই তো বলেছেন, আবার আলোচনা কিসের ?

ইতিমধ্যে আমার থাকার জায়গার বদল হল। স্ট্যাভিস্টক্ স্কোয়ার-এ একটা জায়গা পেলাম। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা থাকে । সেই সময় জার্মানি, ইতালি আর পোল্যান্ড থেকে দলে দলে তরুণ তরুণী লন্ডনে আসত ইংরেজি ভাষা শেখার জন্য। হস্টেলে তাদেরই সংখ্যা বেশি ছিল । তাদের দেখে কীরকম হতচকিত মনে হত, বেশি কথাবার্তা বলত না, কেমন যেন ভয়ে ভয়ে তাকাত । বুঝতাম মহাযুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। ওদের সঙ্গে কোনওদিন যুদ্ধের কথা আলোচনা করিনি । তবে দু-একজন নিজে থেকেই কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের বিভীষিকার কথা বলত ।

এই সময় একজন বিরাট সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে পরিচয় হয় । তিনি রেকর্ডিং করতেন না, রিসার্চ করতেন। নাম উইলিয়াম ডি-লেনলি । আমাকে হ্যামারসিথ-এর আর.সি.এ.-র ‘দি টাওয়ার’ বিল্ডিং-এ ডবলিউ জে ময়লেন নিয়ে গেলেন তাঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। মিস্টার ময়লেন ত্রিশ দশকে দীর্ঘদিন কলকাতায় ছিলেন । তিনি ব্রিটিশ মুভিটোন নিউজ এবং ইন্ডিয়ান ইনফরমেশন নিউজের কর্ণধার ছিলেন। নিউ থিয়েটার্স, ইন্দ্রপুরী ফিল্ম করপোরেশনকে অনেক সাহায্য করেছেন। যেমন নিউ থিয়েটার্সের জন্য একটি উড়োজাহাজ বানিয়ে দেন । আকাশে ওড়ার জন্য নয়, প্রপেলার চালিয়ে ঝড়ের সিন তোলার জন্য। প্রপেলার-সহ ইঞ্জিন একটা শক্ত কাঠের সঙ্গে ফিট করে বহুদিন খেটে ইঞ্জিন চালু করেন। তখন কলকাতায় চার্লস কিভ নামে একজন শব্দযন্ত্রী ছিলেন । খুব গুণী মানুষ । মিস্টার ময়লেনের অন্তরঙ্গ বন্ধু। এঁরা যে কোনও ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিয়ে কত কাণ্ড করতেন আজ তা ভাবা যায় না। বিস্কুটের টিনের মধ্যে ‘ডিক্‌টোফোন’, সেই সঙ্গে ‘টব্যাক’-ও করে ফেললেন ।

কলকাতা শহরকে বড় ভালবেসেছিলেন মিস্টার ময়লেন । হয়তো আমার মতো একজন কলকাতাবাসীকে পেয়ে উজাড় করে স্নেহ-ভালবাসা দিয়েছিলেন । প্রায় রবিবারে স্ত্রী ও শিশুকন্যা-সহ আমাকে নিয়ে বেড়াতে যেতেন লন্ডন ছাড়িয়ে অনেক দূরে। সকলে মিলে কোথাও খেয়ে নিতাম । বড় ভাল লাগত ওঁদের সঙ্গ। বলতেন, ‘এখানে এতটুকু সময় নষ্ট করবে না। যতটা পারো দেখে যাও। জানি, এরকম যন্ত্রপাতি পাওয়া কলকাতায় সম্ভব নয়—তাতে কী ? মূল কথা বা থিয়োরি তো একই । ‘

ডি-লেনলি ছিলেন সত্যিকারের একজন বৈজ্ঞানিক। শব্দবিজ্ঞানের গবেষক । তিনি একটি স্পিন্ডল তৈরি করেছিলেন এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় সাউন্ড ডাবিং-এর জন্য । তার পেটেন্টও করেছিলেন, নাম—ডি-লেনলি স্পিন্ডল্। জিনিসটা এরকম : মূল ছবিটা চলছে, তার নীচে সাব টাইটেলের মতো যে ভাষায় ছবিটা ডাবিং করা হবে তার সংলাপের লেখাটাও চলছে ডি-লেনলি স্পিন্ডল-এর মাধ্যমে। পর্দায় রেডিও ব্যান্ডের মতো একটা সোজা লাঠির মতো ব্যান্ড দাঁড়িয়ে আছে। লেখাগুলো ব্যান্ডের গায়ে লাগলে যিনি ডাব করছেন তিনি কথাগুলো উচ্চারণ করলেই একেবারে মিলে যাবে ।

সেই সময় ‘ক্যারাভ্যান’ নামে স্টুয়ার্ট গ্র্যানজার-এর একটি অপরিণত ছবি ইতালিয়ান ভাষায় ডাবিং হচ্ছিল। ডি-লেনলি-র সঙ্গে পরিচয় হল । প্রচণ্ড দাম্ভিক মানুষ। বললেন, ‘শুধু আমেরিকা যেতে এক মিলিয়ন ডলার রোজগার করব ছবি ডাবিং করে ।’ বছর ছয়েক পর আবার লন্ডনে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। প্রকৃত বিস্ময়ে তাঁর প্রতিভার পরিচয় পাই । ইতিমধ্যে প্যানারোমিক ও স্টিরিওফোনিক সাউন্ডও করে ফেলেছেন। অর্থাৎ মূল ছবির ডাবিং-এও চরিত্র বাঁ দিক থেকে ডান দিকে কিংবা ডান দিক থেকে বাঁ দিকে কথা বলতে বলতে হেঁটে গেলে শব্দও ঠিক সেইভাবে যাবে। তাঁর নিজস্ব ছোট্ট থিয়েটারে আমাকে তা দেখালেন। পাঁচটা ছোট ছোট স্পিকার সাজানো রয়েছে ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়রা যেমন দাঁড়ায় সেইভাবে । স্ক্রিনের পিছনে গোলকিপার। সামনে ডাইনে আর বাঁয়ে আরও দুটো স্পিকার ফুটবলের রাইটব্যাক আর লেফটব্যাকের মতো। বাকি দুটো থিয়েটারের পিছন দিকে ডাইনে আর বাঁয়ে—রাইট আউট আর লেফট আউটের মতো ।

আবার বছর দুয়েক পর তাঁর সঙ্গে লন্ডনে দেখা হল । উত্তেজনা হচ্ছিল, না জানি এবার গিয়ে কী দেখব। আবার হতভম্ব হলাম । সব জিনিসটাকে ছোট্ট করে একটা টেবিলের উপর অনেকটা চার্চ অর্গানের সাইজে করে ফেলেছেন। সামনে একটি চেয়ার। টেলিভিশনের মতো একটি ছোট্ট স্ক্রিন। তাতে ছবির সঙ্গে সাবটাইটেল সংলাপ ছুটছে। অভিনেতা বা অভিনেত্রী একাই সুইচ টিপে চালাতে পারেন। কারও সাহায্যের দরকার নেই। যাঁর যখন সময়, এসে ডাবিং করে চলে যেতে পারেন। ‘জিনিয়াস’ কথাটা বোধহয় এই ধরনের মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ।

পরের বছর আবার লন্ডনে যাই । লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আমন্ত্রণে । শুনলাম, রিভলভারের নল কপালে ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ডি-লেনলি । অনেক কষ্টে কারণ জানার কৌতূহল দমন করলাম। প্রতিভাবান মানুষকে দূর থেকে দেখাই ভাল । কাছে গেলেই নিরাশা ।

চার্লস ক্রাইটনের ‘দি হান্টেড’ ছবির কাজের শেষপর্ব চলছে। একদিন সকালে ডার্ক বোগার্ডে বললেন, ‘আজ লাঞ্চের সময় একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব’ । কথাটা বলেই মেকআপ রুমের দিকে ছুটলেন । জিজ্ঞেস করবার সময় পেলাম না যে, কে ?

যথাসময়ে ডার্ক আমাকে হাজির করলেন লরেন্স অলিভিয়ার-এর সামনে । তিনি তখন খাচ্ছিলেন। অলিভিয়ার প্রথমেই ডার্ক-এর উদ্দেশে একটি অশ্লীল শব্দ ছুঁড়ে মিষ্টি হেসে স্বাগত জানালেন আমাকে । শব্দটি আপাতভাবে অশ্লীল হলেও ওঁদের মধ্যে চালু সম্বোধন, অনেকটা আমাদের “শালা’-র মতো। অলিভিয়ার আমাকে অনেক প্রশ্ন করলেন ভারতবর্ষ, কলকাতা এবং কলকাতার নাটক সম্পর্কে। যতটা জানতাম উত্তর দিলাম। আমার কথা বলার পালা এলে বললাম, ‘আপনার ছবি দেখেছি ।’ তিনি বললেন, ‘সব ? বেশ, নাম বলো।’ গড়গড় করে নাম বলে দিলাম। তিনি হাসতে লাগলেন । হাসতে হাসতে বললেন, ‘তার মানে লেখাপড়া কিছু করোনি, খালি সিনেমা দেখেছ!’ বলেই আবার সেই লরেন্স অলিভিয়ার-খ্যাত বিখ্যাত হাসি ।

বললাম, ‘দু সপ্তাহ আগে আপনার নাটকও দেখেছি, সিজার অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা ।’ এবার একটু নড়েচড়ে বসলেন অলিভিয়ার । বললাম, ‘একটা জিনিস আমার বড় অদ্ভুত লাগল। অনেকদিন আগে আপনার আর ভিভিয়ান লি-র ‘লেডি হ্যামিলটন’ দেখেছিলাম । তখন ভিভিয়ান তরুণী ।’ হেসে বললেন, ‘আমিও তখন তরুণ ছিলাম।’ বললাম, ‘লেডি হ্যামিলটনের প্রথম দৃশ্যে ভিভিয়ান লি বৃদ্ধা। সারা অঙ্গে দারিদ্র্যের চিহ্ন। গলার আওয়াজ অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে ভাঙা, ফ্যাসফ্যাসে । আর আজ তিনি প্রৌঢ়া। কিন্তু স্টেজে চঞ্চলা হরিণীর মতো ক্লিওপেট্রার ছুটোছুটি দেখে মনে হল বয়স আঠারোর বেশি নয়।’ মুখ কিছুটা বিকৃত করে অলিভিয়ার বললেন, ‘অভিনয় করতে এসেছে। শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখবে না, তা হয় নাকি !’ অহীন্দ্র চৌধুরীর কথা মনে পড়ে গেল—’দেহ পট সনে নট সকলি হারায়’ ।

হঠাৎ প্রশ্ন করলেন অলিভিয়ার, ‘নাটক পড়েছ ?’ বললাম, ‘পড়েছি । মনে হয়েছে একেবারে পাঠ্য নাটক। আপনার নাটক না দেখলে ভাবতে পারতাম না এ নাটক মঞ্চস্থ করা যায়।’ খাওয়া সেরে উঠতে উঠতে তিনি বললেন, ‘পাঠ্য নাটক বলে কিছু নেই । সব নাটকই মঞ্চস্থ করা যায় ।’ সঙ্গে সঙ্গে মাথায় খেলে গেল সব কিছু নিয়ে ছবিও করা যায় ।

১৯৮০-৮১ সালে লন্ডনে স্যার লরেন্সের একটা টি.ভি. ইন্টারভিউ দেখি । শীর্ণ চেহারা—গলার আওয়াজ ক্ষীণ ; দুরারোগ্য ক্যান্সার ও অন্যান্য ব্যাধিতে ভুগছেন । একজন লম্বা চুলওয়ালা তরুণ তাঁকে প্রশ্ন করছিল । ‘আপনার মতন একজন বিরাট অভিনেতা এত আজেবাজে ছবিতে কাজ করেন কেন ?’ মুহূর্তে তাঁর বসা চোখ দুটি হ্যামলেটের চোখের মতো জ্বলে উঠল। বললেন, ‘তুমি আমার সংসার চালাবে ? আমার ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজের খরচ দেবে ?” দিন পনেরো পরে টি.ভি.-তে অরসন ওয়েলস্-ও প্রায় অনুরূপ প্রশ্নের একই উত্তর দিয়েছিলেন, আরও তীক্ষ্ণ ভাষায় ।

লন্ডন শহরের সারা অঙ্গে তখন বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত। তিনতলা বা চারতলা বাড়ি খুব কমই দেখা যায়। রাস্তার ধারে শতরঞ্জি টাঙিয়ে রেস্তোরাঁ । চকোলেট আর ডিম র‍্যাশন। ইংরেজ ছাড়াও জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই এগিয়ে এসেছে শহরকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে। সুন্দর থেকে সুন্দরতর করতে। সে এক বিরাট কর্মকাণ্ড। এত দুঃখ, এত দৈন্যের মধ্যেও মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়নি ।

স্টুডিয়ো থেকে ফেরার সময় অনেকদিন পাইনউড থেকে আক্সব্রীজ হেঁটে ফিরতাম। খুব ভাল লাগত। পথে দেখতাম এক টুকরি আপেল রাখা আছে। আর লেখা আছে, দাম এক পেনিতে একটা। বিক্রেতা নেই। একটা আপেল নিয়ে এক পেনি রেখে দিয়ে খেতে খেতে হাঁটতাম । আজকের লন্ডনে এই দৃশ্য বিরল। ইংরেজদের সেই মার্জিত ব্যবহারও আর নেই ।

একদিন স্টুডিয়োতে একটা নোটিশ দেখলাম। বেলা তিনটের সময় তিনজন টেক্‌নিশিয়ান টুন্ড্রা বা ল্যাপল্যান্ড থেকে ফিরবেন। তাঁদের সংবর্ধনা জানানো হবে । সাড়ে তিনটে নাগাদ একটা ভ্যান ঢুকল। তা থেকে নামল তিনটি মূর্তি । দেখে শিউরে উঠলাম । জট পাকানো চুল আর দাড়ি । নাকে মুখে ঘা, রস গড়াচ্ছে। কুষ্ঠ রোগীর মতো ক্ষত-বিক্ষত দেহ। সবাই হাততালি দিয়ে স্বাগত জানাল। তাঁরাও হাসিমুখে হাত নাড়লেন । তারপর তাঁদের পাঠানো হল হাসপাতালে ।

দু’দিন পরে তাঁদের তোলা ছবি দেখলাম। যাকে বলে স্লেট-টু-স্লেট । মানে সম্পাদনা ছাড়া শুধু শটগুলো । এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। বল্গা হরিণ আর ওখানকার অধিবাসীদের পোষা ঈগলপাখি নিয়ে একটি হিউম্যান ডকুমেন্টারি ফিল্ম । কবিতার মতো। শটগুলো যেন কবিতার এক-একটি লাইন। চামড়ার গ্লাস পরা হাত থেকে ঈগল উড়ে যায়। ঊর্ধ্ব আকাশে বিলীন হয়ে যায় ঘুরে ঘুরে। তারপর সোঁ সোঁ আওয়াজ করে বাতাস কেটে অবিশ্বাস্য গতিতে নেমে আসে মাধ্যাকর্ষণের সাহায্যে। ঝাঁপিয়ে পড়ে বরফের মধ্যে। শুরু হয় দাপাদাপি। তুষারকণা উড়তে থাকে। সূর্যের আলোয় মনে হয় রাশি রাশি হিরে জ্বলছে। পর মুহূর্তেই আকাশে ওঠে ঈগল । দুই পায়ে ধরা মোটা লোমশ একটি জন্তু। প্রভুর কাছে ফিরে আসে উপহার নিয়ে । এরকম কত রকমের যে ছবি আর তার সৌন্দর্য ! ছুটন্ত বল্লা হরিণের দল— পায়ে পায়ে বরফ ঠিকরে পড়ে। স্তিমিত বিষাদভরা সন্ধ্যায় ওখানকার মানুষদের জীবনযাত্রা। শিশুর হাসি। বাঁশির সুর। সবটাই আমার কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা ।

ছবি দেখার পর প্রেরণা পেলাম। স্টুডিয়ো ফ্লোরের মধ্যে চেয়ারে বসে স্টার্ট আর কাট্ বলে ছবি করা যায় না। বাইরে বেরুতে হবে সব বাধা দূর করে। বিভিন্ন ছবিতে বিভিন্নভাবে প্রকৃতি আর মানুষকে ধরতে হবে । চাই ক্লান্তিহীন পরিশ্রম । অটুট স্বাস্থ্য। সতেজ মন । সময় গড়িয়ে যায়। দেখতে দেখতে নভেম্বরের লন্ডনের বিখ্যাত ফগ ছেয়ে ফেলে শহরটাকে। কমতে থাকে গোধূলির সময়-সীমা। আমার বেশ হিংসে হত গ্রীষ্মে ওখানকার তিন-চার ঘণ্টা সন্ধ্যার কথা ভেবে। ওরা বেশ ধীরেসুস্থে এক সন্ধ্যায় একটি পুরো সিন টেক্ করতে পারত । আমরা তো মোটে সূর্যাস্তের পর পনেরো কুড়ি মিনিট গোধূলি পাই। তারপর ঘন আঁধার নেমে আসে । বড়জোর দু-একটা শট নিতে পারি। অপেক্ষা করতে হয় আবার পরের দিন সেই সময়টুকুর জন্য। সাদাকালো ছবিতে গোধূলির আলোয় অনেকরকমের এফেক্ট দেওয়া সম্ভব ।

যেখানে থাকতাম সেখান থেকে লন্ডন ইউনিভার্সিটি খুব কাছে। একদিন আমার রুমমেট ফিলিপের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছি। ফিলিপ তখন লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে পি. এইচ. ডি. করছে। হঠাৎ দেখি একটা পুরনো মরিস চালিয়ে এক ভদ্রলোক গাড়ি পার্ক করে নামলেন । তখন লন্ডনে নতুন গাড়ি খুব কম দেখা যেত। ভদ্রলোকের চেহারা দেখে মনে হল কোথায় যেন দেখেছি। দীর্ঘদেহী, সুদর্শন, চোখে চশমা। আমি তো মনে মনে ফিল্ম জগতের কোনও বিখ্যাত মানুষের কথা ভাবছি। ভদ্রলোক গাড়ি থেকে নেমে সামনের বাড়িতে ঢুকলেন । হাতে একটা ব্রিফকেস। ফিলিপ বলল, ‘কাকে দেখছ ?’ বললাম, ‘উনি কে ? কোথায় যেন ওঁর ছবি দেখেছি মনে করতে পারছি না । ‘ ফিলিপ হেসে বলল, ‘টি.এস. এলিয়ট। ’

চমকে উঠলাম । নোবেল প্রাইজ পাওয়া কবি নিজে একটা ঝরঝরে গাড়ি চালিয়ে এলেন। আমাদের দেশের কোনও কবি হলে তো এখুনি হাজার

হাজার লোক পায়ের ধুলো নিয়ে মাতামাতি করত ! স্থির করলাম একদিন এলিয়টের অফিসে হানা দেব ।

গেলামও । তাঁর সেক্রেটারিকে বললাম দেখা করতে চাই। মিষ্টি হেসে প্রৌঢ়া মহিলা ভিতরে গেলেন। দু’ মিনিট পরে ডাক এল। ভদ্রলোকের চোখের দিকে তাকিয়ে কীরকম যেন হয়ে গেলাম। প্রশ্নের উত্তরে বললাম, ‘কলকাতা থেকে আসছি। জানানোর জন্যে দেখা করা। ‘ কোনও কারণ নেই, শুধু আপনাকে শ্রদ্ধা

মাত্র মিনিট পাঁচেক ছিলাম। সময় নষ্ট করতে চাইনি। ওরই মধ্যে কয়েকটি কথা বলা । ‘মার্ডার ইন দ্য ক্যাথিড্রাল’-এর কথা উঠতে বললেন, ‘লন্ডনে ওরা স্টেজ করেছিল, একেবারে ফ্লপ। চলেইনি।’ বলে হাসতে লাগলেন । আমি বললাম, ‘রবীন্দ্রনাথ নিউ থিয়েটার্সের ‘নটীর পূজা’ ছবি স্বয়ং পরিচালনা করেছিলেন। সাতদিনও চলেনি।’ শুনে হা হা করে হেসে উঠলেন ।

পাইনউড স্টুডিয়োতে জ্যাক কার্ডিফ এসেছেন। নিজেই করেছেন চিত্রগ্রহণ আর পরিচালনার কাজ । পৃথিবীর বিখ্যাত ক্যামেরাম্যানদের মধ্যে দুজন আমার খুব প্রিয় ছিলেন। একজন হলিউডের জেমস ওয়াংহো আর ব্রিটেনের জ্যাক কার্ডিফ। বিশেষ করে সে-যুগের সাদাকালো ছবিতে এঁদের তুলনা পেতাম না । একটা রিল দেখেই বলে দিতে পারতাম জ্যাক কার্ডিফ বা জেমস ওয়াংহোর ছবি, যেমন এখন পারি সুব্রত মিত্রর ছবি দেখে । অবশ্য অনেকের মত অন্যরকম। আমি নিজের ধারণার কথাই বলছি।

জ্যাক কার্ডিফ একটি ফাঁসির কয়েদির কনডেমড সেল তৈরি করেছিলেন। ফাঁসি হওয়ার আগে কয়েকটি রাতের দৃশ্য। অসাধারণ লাইটিং। অজস্র লাইট ব্যবহার করেছিলেন জেমস্, ডেপথ্ অফ-ফোকাসের জন্য । তা ছাড়া অন্ধকারের মধ্যে হঠাৎ চোখ ধাঁধানো আলোয় কনডেম সেল এক ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছিল। আইন অনুযায়ী ফাঁসির আগে আসামীর গতিবিধি লক্ষ করার জন্য ঘরটাতে বেশি আলো থাকে । এই প্রথা যে কত নিষ্ঠুর সেটা বোঝানোর জন্য এই ধরনের লাইটিং । জ্যাক কার্ডিফের সুষমামণ্ডিত ‘প্যানডোরা অ্যান্ড দ্য ফ্ল্যাইং ডাচম্যান’ আমরা সবাই দেখেছি । ক্যামেরা দিয়ে যেন কাব্যের সৃষ্টি। তাঁর সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুব ভাল লেগেছিল । যে কদিন কাজ করেছিলেন, অবসর সময় তাঁর সেটে থাকতাম ।

বিখ্যাত পরিচালক স্যার ক্যারল রিড একদিন সেটে এলেন। তাঁর ‘অড ম্যান আউট’ ছবিটি বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ছবির মধ্যে একটি। বারো বছর পর আবার তাঁর সঙ্গে দেখা হয় হলিউডে। ‘মিউটিনি অন দা বাউন্টি’ ছবি শুরু করবেন মার্লন ব্র্যান্ডো-কে নিয়ে। পরে শুনেছিলাম তিনি ছবি ছেড়ে দিয়েছিলেন ব্র্যান্ডোর দুর্ব্যবহারে। কত রকমের ছবি করেছেন ক্যারল রিড—থার্ড ম্যান, ট্রাপিজ, আনটাচেব্ল ইত্যাদি। দু-চার লাইনে এত বড় প্রতিভার বর্ণনা হয় না ।

লন্ডনে আসার মাসখানেকের মধ্যেই ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের সভ্য হলাম। স্টুডিয়ো থেকে সন্ধ্যায় সোজা ইন্সটিটিউটে চলে যেতাম। ১৬ মিলিমিটারে ইউরোপের ছবি দেখানো হত মাঝে মাঝে । তা ছাড়া বিখ্যাত সব ছবির স্টিল ফোটোগ্রাফ সাজানো থাকত। দেখতাম, আনন্দ পেতাম ৷

মনে পড়ে গেল ১৯৪৮-এ ক্যালকাটা মুভিটোনে আমাদের একটি ছোট্ট ফিল্ম ক্লাব ছিল । উদ্যোক্তা মৃণাল সেন । কোত্থেকে জানি না আইজেনস্টাইন, পুডভকিন-এর ছবি আনতেন মৃণালবাবু । আমরা সাত-আটজন মিলে দেখতাম বেঙ্গল ফিল্ম ল্যাবরেটরিতে। কানন দেবীও ছিলেন আমাদের মধ্যে। সব খরচ উনিই দিতেন। নামহীন গোত্রহীন ভারতবর্ষে প্রথম ফিল্ম ক্লাব বোধহয় এটিই, মৃণাল সেনের সৌজন্যে ।

ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটে দিন দিন ইন্টেলেকচুয়ালদের ভিড় বাড়তে লাগল। শুধু ফর্ম নিয়ে লাফালাফি। সামান্য সাত-আটজন গভীরভাবে সিনেমাকে ভালবেসেছিলেন, তার মধ্যে স্ট্যানলি রিড একজন । ‘সাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ ম্যাগাজিনে তাঁর অনেক অবদান ছিল । তেতাল্লিশ বছর আগেকার কথা । পরে কী হয়েছে খবর জানি না। মাঝে মাঝে লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছি ষাটের দশকে। স্ট্যানলি রিড তখন ফেস্টিভ্যালের ডিরেক্টর। খুব আদর যত্ন করতেন ।

লন্ডন শহরে বসে পৃথিবীর সমস্ত দেশের ছবি দেখা যায়। এ সুযোগ নিউ ইয়র্ক বা প্যারিসেও পাওয়া যায় না। সেই সময়টাও চলচ্চিত্র শিল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। পথ দেখিয়েছিলেন রোজেলিনি ‘ওপেন সিটি, ‘পাইজা’ ইত্যাদি ছবি করে। হলিউড থেকে ইনগ্রিড বার্গম্যান-কে উড়িয়ে নিয়ে এসে তাঁর সর্বনাশও করেছিলেন। ফেলিনির ‘নাইটস্ অফ ক্যারেরিয়া’, ডিসিকার ‘বাইসাইকেল থিফ’, ‘মিরাল ইন মিলান’, ইত্যাদি ছবি এক নতুন ফিল্মি দুনিয়ার সন্ধান দেয় । সেই সঙ্গে আসর আলো করে নামলেন ইঙ্গমার বার্গম্যান ‘সেভেন্‌থ সিল’ উপহার দিয়ে । চুপচাপ, একা একাধিকবার ছবিটা দেখতাম। ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটে সেমিনার-টেমিনার হত । আমি যেতাম না । শুকনো লেকচার শুনতে কোনওদিনই ভাল লাগত না ।

পাইনউডে একদিন হলিউড থেকে জেমস স্টুয়ার্ট এলেন এক বৃদ্ধ বিজ্ঞানীর চরিত্রে অভিনয় করতে। কী অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন অভিনেতা । লম্বা লম্বা শট দেন, অভিনয়ের মধ্যে কত ধরনের অলঙ্কার। নিজেই বার বার নিষ্ঠার সঙ্গে রিহার্সাল করেন । যত রিহার্স করেন ততই যেন অভিনয় খুলে যায়, নতুন নতুন পথ আবিষ্কৃত হয়। পৃথিবীর প্রথম সারির সুদক্ষ অভিনেতা জেমস স্টুয়ার্ট মানুষ হিসাবেও তেমনই মিষ্টভাষী, দরদী ও উদার ।

প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যে আমার দিন কাটে। সকাল সাড়ে আটটায় ত্রিশ মাইল দূরে স্টুডিয়োতে যাওয়া, সন্ধে ছ’টায় ফিল্ম ইন্সটিটিউট । নাইট শোয়ে সিনেমা দেখে হস্টেলে ফিরতে ফিরতে রাত বারোটা। এরই মধ্যে স্ট্যানলি ম্যাথুজের ফুটবল খেলা। সেজম্যান আর ডিক স্যাবিচের মধ্যে উইম্বলডন টেনিস ফাইনাল, লন্ডন ফিলহারমনিক অর্কেস্ট্রা ইত্যাদি না দেখে বা না শুনে থাকা যায় নাকি ?

কুইনস্ পার্ক গোলাপে গোলাপে ছয়লাপ। দুপুরবেলা ঘাসে শুয়ে আছি চুপচাপ । হঠাৎ মনে হল এই যে এত ব্যস্ততা, এটা কিসের জন্য ? অর্থহীন এই ব্যস্ততা। অহেতুক সময় নষ্ট করছি। পাইনউড স্টুডিয়োতে ব্যাক প্রোজেকসনের বদলে প্যানক্রোমেটিক আর অর্থোক্রোমেটিক ফিল্ম দিয়ে বাইপ্যাক্ প্রসেসে যে চলমান পশ্চাৎপট আনা যায় তা কি কোনওদিন ভারতবর্ষে সম্ভব ?

দু-তিনদিন ধরে মনের সঙ্গে লড়াই চলল। স্থির করলাম কলকাতায় ফিরতে হবে। সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছে চলচ্চিত্র পরিচালক হওয়ার লড়াই ।

(পরিচালক তপন সিনহা রচিত ‘মনে পড়ে’ থেকে সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *