ফিল্মি পার্সোনালিটি

Some Interesting Facts about Ritwik Ghatak – ঋত্বিক ঘটক

Ritwik Ghatak Bengali Filmmaker

ঋত্বিক ঘটক

ঋত্বিক ঘটকের বাবা যখন ঢাকায় ডিএম ঠিক সেই সময় জন্ম তার। পিতৃদেব রায়বাহাদুর সুরেশ চন্দ্র ঘটকের তখন খুব নাম ডাক। ছেলেবেলার প্রভাব তার কাজেই বারে বারেই ফিরে এসেছে। যদিও দেশভাগের জেরে খুব শৈশবেই তাকে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসতেছিল। কিন্তু সেসব স্মৃতি সহজে ভুলতে পারেননি তিনি। উদার উন্মুক্ত মাঠ ধানের ক্ষেত নীল আকাশ আর প্রাণের পদ্মা নদীর প্রভাব থেকে যে তিনি আজীবন বেরোতে পারেননি তা তার শিল্পকর্মই বলবে। তার সব কাজে ঘুরেফিরে এসেছে শিকড় হারা বাস্তুহারা মানুষের কথা। তার কথায়, “নিজেদের ষোলআনা সুবিদের জন্য জোচ্চুরির দ্বারা যে দেশ ভাগ করা হয়, তার ফলে আমার মত প্রচুর বাঙালি শিকড় হারিয়েছে। এই দুঃখ ভোলার নয়, আমার শিল্প তারই ভিত্তিতে।”

তিনি প্রথমে ভর্তি হন ময়মনসিংহের মিশন স্কুলে। এরপরে ক্লাস থ্রি থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েন বালিগঞ্জ গর্ভমেন্ট স্কুলে এবং এখান থেকেই ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। এরপর রাজশাহী কলেজের সাইন্স নিয়ে ভর্তি হলেও ছেড়ে দিয়ে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে ভর্তি হন আর্টস নিয়ে এবং এখান থেকে ba পাস করেন তিনি। ইংরেজি অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে এম এ পড়তে শুরু করেন তিনি। কিন্তু অস্থির মনোভাব তার গোড়া থেকেই। ফাইনাল পরীক্ষা ঠিক আগে পড়া ছেড়ে দেন । প্রবেশ করেন কমিউনিস্ট পার্টিতে।

তাঁর কথায়, “আগে আমি লিখতাম, অর্থাৎ সাহিত্য করতাম। দেখলাম এই গল্প, কবিতা মানুষকে সোজাসুজি affect করে না। বড় remote. সেই জন্যে গেলাম নাটক করতে— stage-এ। সামনে এক হাজার, দু-হাজার, পাঁচ হাজার লোক পাব, তাদের ক্ষেপিয়ে তুলতে পারব। Immediate reaction হবে। পরে দেখলাম Cinema আরও শক্তিশালী মাধ্যম, আরও বেশি লোককে একসাথে hit করতে পারব। আমি যা বলতে চাই, তার একটা immediacy আছে, তাগিদ আছে, তাড়া আছে। সিনেমা এ দিক থেকে সবচেয়ে আদর্শ মাধ্যম।”

তিনি যখন ফাস্ট ইয়ার ক্লাসে পড়ছেন তখন একটু RSP এর দিকে ঝুঁকে পড়েন। এরপর IPTA এর ইনফ্লুয়েন্সও এসে পড়ে তার জীবনে এবং সম্পূর্ণরূপে Marxist নিয়ে পড়া আরম্ভ করেন। তিনি Marxism এর বই পড়া, লেখা, অভিনয় করা এসব নিয়ে মেতে থাকতেন এই সময়টাতে। এটা হচ্ছে ১৯৪৪ সালের কথা। তখন থেকেই তিনি গণনাট্যের সক্রিয় সদস্য সেক্রেটারি হলেন ‘৪৮ এ আবার ‘৫৩ তে ছেড়েও দিলেন ওই পার্টি banned হওয়ার কিছু আগে।

ঋত্বিকের কথায়, “(গণনাট্যে থাকাকালীন আমার নাটকের) সব ক’টাতেই পরিচালক আমি ছিলাম। আমার নাটকের মধ্যে তখন ‘জ্বালা’, ‘দলিল’— ‘দলিল’টা প্ৰথম— ‘অফিসার’, ‘ভাঙা বন্দর’ এই চারটেই আমার মনে পড়ছে… আরও কিছু-কিছু আছে, আমার ঠিক মনে পড়ছে না । ‘সাঁকো’।”

তিনি আরো বলেছেন, ”দলিল’? ১৯৪৮-এ আমি রাজশাহি থেকে কলকাতায় এলাম। থাকগে, সে নানা রকম কথা। কথা হচ্ছে যে, সংক্ষেপে, মা-কে নিয়ে আমায় আসতে হল। তখন চোখের সামনে দেখে… এ ‘বাস্তুহারা’ এই ব্যাপারটাই, এই ভাষাটাই প্রথমত আমার অসহ্য লাগে। এই ‘শরণার্থী’, ‘বাস্তুহারা’, এ সব কথা শুনলে গা ঘিনঘিন করে। হ্যাঁ, most… affair. থাকগে। ‘দলিল’ আমি লিখলাম, তখন আমি IPTA -র secretary ছিলাম। এবং Central Squad-এর director ছিলাম। নাটক করাই তখন আমার কাজ ছিল। করা গেল। ওটা All India-র first prize পেল। আমি তখন acting-ও করতাম, ইত্যাদি। তার পরে পি.সি. যোশি আমাকে— তখন পি.সি. যোশি এলাহাবাদে— একটা চিঠি লিখল। আমার সেজদার বাড়িতে আমি তখন থাকতাম। সেটা হচ্ছে ঐ হরিশ মুখুজ্যে রোডে। তখন 1951. তখন ঐ ‘Indian Way’ বলে একটা কাগজ বেরত। Editor ছিলেন পি.সি. যোশি। যোশি, আপনারা জানেন, General Secretary ছিলেন তার আগে। তারপর মাঝখানে বি.টি.আর এল, রনদিভে, যার ফলে আমাদের, আমার ও বৌয়ের বারোটা বাজল। Anyway damn it. সে সব আলোচনা করে কোন লাভ নেই। এখনকার ছেলেপুলেরা জানবেও না, বুঝবেও না। কাজেই ঐ সমস্ত কথার কোন দরকার নেই ।” এই সময় পি. সি, কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি, ঋত্বিক ঘটককেবাংলার চার্জে বসিয়ে দিলেন। তখন তিনি ‘Suicide Wave in Calcutta’ বলে একটি লেখা পাঠালেন। তাঁর কথায়, “সেটা বেরল এবং খুব নামধাম (হল)। তা আমি ভাবলাম এতে তো জমবে না মাল! আরও রাগ প্রকাশ করার একটা ব্যাপার আছে। তখন আমি film-এ encroach করিনি at all. এই ‘জ্বালা’ নাটকে তার থেকে select করে ছ’টা চরিত্র— each one is a true character. ‘জ্বালা’ is a documentary. এই নাটক লিখলাম এবং acting করলাম। ছেলেমেয়েদের নিয়ে কাজ করলাম। তারপরে এখন বিভিন্ন জায়গায় privilege দিল। কিন্তু সেই সময়কার কলকাতা…। এই যে এখন আরও horrible, মানে এখন তো একটা বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। At that time it was more or less a much better city.”

(‘ নিজের পায়ে নিজের পথে’ থেকে সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *