Blogস্টোরি অ্যান্ড স্ক্রিপ্ট

WHAT IS ANTAGONIST? ভিলেন চরিত্র তৈরি করার খুঁটিনাটি

How to create Antagonist or Villain character

How to create negative character

সের্গেই আইনস্টাইন বলেছেন, প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে। যদিও ফিজিক্সের আলোচনা নয় তবুও সঙ্গত কারণে এ কথাটি মনেই পড়ল কারণ আজ আমরা আলোচনা করব ‘ভিলেন’ নিয়ে। ভিলেন বা অ্যান্টাগনিস্ট বা নেগেটিভ চরিত্র। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে সিনেমা দেখার সময় আমরা বাচ্ছারা অনেকেই যাকে বলতাম খারাপ লোক বা দুষ্টু লোক। সিনেমার হিরোকে আমরা সবাই মনে রাখি কিন্তু সিনেমার আলোচনা করতে গেলে এটা মনে রাখতে হবে যে সিনেমার হিরোকে আমরা তখনই মনে রাখব যখন ঠিক সেই একই ওজনের অর্থাৎ একই রকম গুরুত্বপূর্ণ দুষ্টু লোক বা খারাপ লোক তার সঙ্গে টক্কর দেবে। বিপরীত শক্তি যদি পাওয়ারফুল না হয় তাহলে হিরোর হিরোইজম কোথায়? তাই জন্য একটা গ্রেট চরিত্র লেখা তখনই সম্পূর্ণ হবে যখন তার উল্টোদিকে একটা গ্রেট ভিলেন থাকবে।

এন্টাগোনিস্ট শব্দটা এসেছে গ্রীক শব্দ ‘antagonistes’ থেকে। এর অর্থ opponent বা villain বা rival। বিখ্যাত screenwriter John York বলেছেন,”The sum total of all the obstacles that obstruct a characters in the persuit of their desires”। অর্থাৎ ধরা যাক গল্পের হিরো একটি বাড়ি বানাতে চাইছে, ভিলেনের সর্বপ্রথম এবং সর্ব প্রধান কর্তব্য হবে যেকোনোভাবে সেই বাড়ি বানানো থেকে হিরো কে প্রতিরোধ করা। গল্পের প্রোটাগনিষ্টের লক্ষ্যের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ানো হচ্ছে ভিলেনের একমাত্র কর্তব্য।। এবার এই ভিলেন চরিত্রটি কোন মনুষ্য চরিত্র হতে পারে অথবা কোন প্রানহীন বস্তু বা শক্তি হতে পারে অথবা কোনো আইডিয়াও হতে পারে। Robert McKee বলেছেন,” A protagonist and their story can only be as intellectually fascinating and emotionally as the forces of antagonism make them”।

এখন ভিলেন চরিত্র বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কোন চরিত্র প্রথম থেকেই ধরা যাক ভিলেন বা ইভিল এবং শেষ শুধুই হিরোর ক্ষতি করার জন্য ব্যতিব্যস্ত। সে তার ‘tremendous form of villain’ দেখাতেই বেশি উৎসাহী। যেমন গব্বর সিং। আবার ‘Raatsasan’ ছবির ভিলেন ক্রিস্টোফার কিন্তু মোটেই প্রথম থেকেই ভিলেন নয়। সমাজ এবং circumstance তাকে ভিলেন বানিয়েছে। ভিলেন বা antagonist তখন খুব বেশি interesting হয়ে যায় যখন তার মধ্যে কিছু ভালো গুণও add করা হয়। অর্থাৎ, সেও একজন মানুষ কিন্তু দায়ে পড়ে বা সমাজ পরিস্থিতি তাকে খলনায়ক বানিয়ে তুলেছে।

আবার villanous charecter potray করারও নানা দিক আছে। মানে লেখার সময় থেকেই সেটা develop হতে থাকে আর অভিনেতা এসে তাকে সম্পূর্ণ রূপদান করেন আর কি। অর্থাৎ ভিলেন …সে কেমন ভিলেন? গব্বর সিং totally evil, badass এবং খানিকটা psychotic ও বটে। কাঞ্চা অবশ্যই সাইকোপ্যাথ। আসলে ভিলেন charecter লেখার সময় যদি রিয়ালিজম রেখে লেখা হয় তাহলে খানিক সাইকো ব্যাপার এসেই যায়। কারণ যে ভিলেন হচ্ছে সে তো আর নিজের ইচ্ছেয় হচ্ছে না, কোনো একটা force এর কারণে হচ্ছে। force টা external থেকেই আসে , কিন্তু পরে internal হয়ে যায়। যেমন, ধরা যাক – ‘মাস্টার’ ছবির বিজয় সেতুপথির কথা। সে পুলিশের দ্বারা বিনা কারণে tortured হয়েই যাচ্ছে। circumstance তাকে ভালো থাকতে দিচ্ছে না। সে এগুলোকে realize করতে পারছে এবং ভিতরে ভিতরে ভিতরে তৈরি হওয়া রাগ আর জেদ একসম়য় তাকে এটা বোঝাচ্ছে যে ভালোমানুষ হয়ে সে কিছুই করতে পারবে না। কারণ সে আছে খারাপদের সঙ্গে। তাকে এদের সঙ্গে যুঝতে গেলে খারাপই হতে হবে এবং ধীরে ধীরে সে তাই হয়ে যায়।

কিন্তু আমরা যদি ধরি মগনলাল মেঘরাজের কথা, তাহলে তাকে বলা যেতে পারে মোস্ট charismatic villain। সে দেশের মূর্তি বিদেশে পাচার করে। অহেতুক মানুষ খুন করা বা সমস্ত কিছুর উপর কতৃত্ব স্থাপন করা তার উদ্দেশ্য নয়। সে তার পথে রাজা হতে চায়। আর এই পথে যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে সে তাকে উপড়ে ফেলবে। অর্থাৎ ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ছবিতে প্রদোষ মিত্তিরের কাজ ভন্ডুল করা মোটেই তার উদ্দেশ্য নয়। বরং ফেলুদা তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই সে ফেলুদাকে তার পথ থেকে সরাতে উদ্যত। এবং সে খুব পরিচ্ছন্ন ভিলেন। অর্থাৎ সে একজায়গায় বলছে,” বিষ দেওয়া খুব খারাপ জিনিস বলে হামি মনে করি, বিষের চেয়ে অন্য জিনিষে কাজ হয় বেশি।” এবং তারপরই সেই বিখ্যাত সিকোয়েন্স জটায়ুকে তক্তার উপর পিঠ দিয়ে দাঁড় করিয়ে অর্জুনের চাকুর সার্কাস দেখানো। আবার তার স্বার্থের দরকারে সে বৃদ্ধ শশিবাবুকে খুন করাতেও পিছপা হয় না। সে আসলে অনেক বেশি intellectual। তার দরকারটি বুঝে সে পা বাড়ায়।

আবার সব ক্ষেত্রে কোনো মনুষ্য চরিত্রই protagonist এর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে এমনটা নয়। তার নিজের বিবেক বা চেতনাও অনেক সময় তাকে তার লক্ষ্য থেকে সরানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠতে পারে। যেমন ‘জন অরণ্য’ ছবিতে সোমনাথের শিক্ষা, চেতনা, বিবেক, তার ভালোমানুষী ব্যাপারটা তাকে বাধা দিচ্ছিল কনাকে গোয়েনকার কাছে call girl হিসেবে পাঠাতে। এখন যদি না পাঠাতো তার উন্নতি সম্ভব হতো না, এবং পাঠিয়ে দিলে সে খুব ভালো অর্ডার পেত যার ফলে তার খুব ভালো রকম অর্থপ্রাপ্তি ঘটত। এখানে যেটা দেখানো হয়েছে সেটা হলো inner conflict। যেখানে সোমনাথের স্বার্থকে protagonist এবং বিবেককে antagonist হিসেবে দেখানো হয়েছে। কেউ আবার উল্টোটাও ভাবতে পারেন। কিন্তু এটাও ঠিক, কলকাতা শহরের জটিলতার কাছে এক মানুষের morality র পরাজয় ঘটছে।

একটা ভালো antagonist চরিত্র বা antagonistic point of view একটা ভালো ছবিকে আরো ভালো বানাতে পারে। কারণ protagonist এবং antagonist এর দ্বন্দ্ব নিয়ে সিনেমার গল্প এগিয়ে চলে এবং দর্শককে hook করে রাখে। ফলে চিত্রনাট্যকারের উচিত antagonist চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তার charecteristic তৈরী করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *