স্টোরি অ্যান্ড স্ক্রিপ্ট

What is Character and Characterization in film- চরিত্র কি এবং সিনেমায় চরিত্রায়ন কিভাবে ঘটানো হয়?

Characters in film

Character development

 

 

 

 

চরিত্র কি? চরিত্র(character) হল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী tool বা উপকরণ যা একটি গল্পকে বা আরো সংক্ষেপে বললে একটি ঘটনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। একটি বা একাধিক চরিত্রের দ্বারাই একটি গল্প বা ঘটনা দর্শকের সামনে পরিবেশন করেন লেখক। চরিত্রের দ্বারা যেমন গল্পের ব্যাপারে জানা যায় ঠিক তেমনি গল্পই আবার চেনায় চরিত্রগুলোকে। আর চরিত্র কেন সবচেয়ে শক্তিশালী উপকরণ, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গোটা গল্পটিকে দর্শক মনে না রাখলেও মনে রাখে সেই গল্পের কোনো একটি বিশেষ চরিত্রকে।

Robert McKee বলেছেন —”Charecterization is the sum of all observable qualities of a human being, everything knowable through careful scrutiny”— বাস্তবিকভাবে মানুষ যেভাবে অনুভব করে যেভাবে ভাবে, চিন্তা করে- তাদের এই একান্তই মনুষ্য বৈশিষ্ট্য গুলি গল্পের কোনো একটি কাল্পনিক চরিত্রের উপর আরোপ করা হলে তখন তাকে চরিত্র বলা হবে। তবে এর মধ্যেও কিছু ব্যাপার রয়েছে। প্রথমত, আমরা বাস্তবের কোনো মানুষকেই সরাসরি গল্পে বা কাহিনীতে যুক্ত করতে পারি। আর দ্বিতীয়তঃ, বিশেষত অ্যানিমেশন ফিল্মের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই একটি কুকুর মানুষের মতো করে ভাবছে, মানুষের মতো আচরণ করছে, আবার সেই সঙ্গে কুকুরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুলি ও বর্তমান। এমন ভাবেও কোন একটি চরিত্রকে নির্মাণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় পরিস্থিতি বা প্লট পয়েন্ট কি ধরনের চরিত্র ডিমান্ড করছে। আবার কিছু সময় চরিত্রকে মাথায় রেখেও প্লট পয়েন্ট বানানো যেতে পারে। তবে এ ধরনের গল্পে যথেষ্ট দক্ষতা ও সতর্কতার প্রয়োজন।

আমরা কিন্তু এই নিবন্ধে ফিল্ম ক্যারেক্টর বিষয়েই বিশেষভাবে জানবো। গল্পের বইয়ের ক্যারেক্টার এবং সিনেমার ক্যারেক্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে খুব বেশি ফারাক না থাকলেও দর্শকের গ্রহণের মাধ্যমের কারণে খানিকটা ফারাক চলে আসে। কারণ লেখা চরিত্র যখন ভিজুয়ালাইজ হয় তখন তার দর্শককে আরো বেশি তথ্য প্রদানের সক্ষম হয়। ফলে কিছু বাড়তি উপকরণ যুক্ত হয় ফিল্মের ক্যারেক্টারাইজেশনে।

ফিল্মি একটি চরিত্রকে মূলত দুটি উপায়ে উপস্থাপন করা যেতে পারে— ১) Direct Charecterization, ২)Indirect Charecterization।

১) Direct Charecterization: এর মাধ্যমে পরিচালক বা লেখক সরাসরি দর্শককে জানিয়ে দেন চরিত্রটি কেমন হতে চলেছে। আর এই সরাসরি বলাটাও কয়েকটা উপায় এর মাধ্যমে করা হয়। যেমন —

Voice Over: ১৯৬৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম মায়ের ফলক ছবি ‘Bhuban Some’ এ ভয়েস ওভার দিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। এক্ষেত্রে ভুবন সোম চরিত্রের যাবতীয় দোষ, ত্রুটি, গুণাবলী, তার স্বভাব চরিত্রz তিনি কোন অঞ্চলে বাসিন্দা, কি তার পেশা- সমস্ত ভয়েস ওভারের মাধ্যমে সরাসরি দর্শককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

Appearence: একটি চরিত্র যখন প্রথম কোন scene এ entry নেয় তখন তার বেশভূষা, তার হাব-ভাব এগুলির মাধ্যমেও দর্শক চরিত্রটির সম্পর্কে খানিকটা ধারণা করতে পারে। যেমন সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘Mahapurush’ ছবিতে আমরা বিরিঞ্চিবাবাকে প্রথম দেখতে পাই ট্রেনের কামরার দরজার সামনে বহু ভক্ত তাঁকে প্রণাম জানাচ্ছেন। তাঁর ছুঁড়ে দেওয়া প্রসাদ কুড়াতে তারা ব্যস্ত এবং ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর তাঁর বাড়ানো পা টিকে একটিবার ছুঁয়ে নমস্কার করার জন্য ভক্তরা ছোটাছুটি করছে। চরিত্রের বেশভূষা এবং তাঁর কার্যকলাপ অর্থাৎ গোটা scene টিতে, তার যেখানে appearence হল সেইটা দেখে দর্শক বেশ বুঝতে পারবেন তিনি কোন বড় সাধু-সন্ন্যাসী এবং তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে।

Settings: Settings অর্থাৎ চরিত্রটি কোথায় রয়েছে, তার চারপাশের পরিবেশটা কেমন। ধরা যাক, চরিত্রটি একজন ঐতিহাসিক। তবে অবশ্যই তার কাজ করার ঘরে বেশ কিছু মোটা বই, আতস কাঁচ, কিছু ম্যাপ, গ্লোব, কিছু মূর্তি এসব থাকতে বাধ্য।। কোনো গোয়েন্দার ঘরে গোয়েন্দা সম্পর্কিত বই, নিউজ পেপার কাটিং, রিভলবার এসব থাকবে। অর্থাৎ চরিত্রটির ঘর বা চরিত্রটি যেখানে রয়েছে তার পরিবেশ অনুযায়ী চরিত্রটির পেশা বা তার মানসিক বৈশিষ্ট্য আমরা খানিকটা বুঝতে পারি। যেমন- পাতালঘর ছবিতে ভিকের ঘর দেখে আমরা বেশ বুঝতে পারছিলাম যে সে যন্ত্রবিদ্যায় পৃথিবীর মানুষের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত।

Cinematography: cinematography-র মধ্যে দিয়ে Direct Charecterization করা যেতে পারে।তবে এতে বাকিগুলির থেকে একটু বেশি দক্ষতার প্রয়োজন। ‘Dune’ ছবিতে আমরা দেখি ছবির ভিলেন Baron Horkonnen কে ধূসর কুয়াশার মধ্যে দিয়ে দর্শকের কাছে প্রথম ইন্ট্রোডিউস করানো হয়। আলো এবং ক্যামেরার শট চয়েসের মধ্যে দিয়ে তাকে villanous ভাবে potray করা হয়েছে।

Indirect Charecterization: এই পদ্ধতিতে author বা narrator বা পরিচালক চরিত্রটি সম্বন্ধে দর্শককে সরাসরি কোন তথ্য দেন না। চরিত্রটিকে শুধুমাত্র দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেন। এরপর চরিত্রটি নিজেই নিজের পরিচয় দেয় তার কাজের মাধ্যমে। অর্থাৎ চরিত্রটি কি করছে তা দেখে আমরা বুঝতে পারি চরিত্রটি কেমন। কি তার পেশা বা তার মানসিকতাও আমরা তার অ্যাকশনের মাধ্যমে বুঝতে পারি। ধরা যাক কোন একটি ছেলেকে দেখানো হচ্ছে। তাকে ইন্ট্রোডিউস করার সঙ্গে সঙ্গে তার বয়স আমরা আন্দাজ করতে পারব। ছেলেটি ঘুম থেকে উঠে একটা এলার্ম বন্ধ করলো। ঘড়ির ক্লোজআপে আমরা দেখতে পাব ঘড়িতে কটা বাজে। ধরা যাক ঘড়িতে সাড়ে পাঁচটা বাজে। এর থেকে আমরা বুঝতে পারবো ছেলেটি ভোরে ওঠে বা ভোরে উঠেছে। তারপর ছেলেটি সামান্য ফ্রেশ হয়ে ট্রাক সুট পরে বাইরে দৌড়াতে বের হল। সে মাঠে গেল এবং মাঠ জুড়ে দৌড়াতে আরম্ভ করলো। বেশ কিছু শট দিয়ে পরিচালক দৌড়ানোর সময়টা বোঝানোর চেষ্টা করলেন। এবং তারপরে সে যখন বাড়ি ফিরছে তখন আবার কোনো একটা ঘড়ি ক্লোজআপে আমরা সময় দেখতে পেলাম। এর থেকে তার রুটিন সম্বন্ধে বা তার কার্যকলাপ সম্বন্ধে দর্শক অনেকখানি আন্দাজ করতে পারবেন।
(এর পরের অধ্যায়ে আমরা আরো বিস্তারিত জানবো)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *